• প্রচ্ছদ » » তিস্তা চুক্তি বনাম ফেনী নদীর পানি


তিস্তা চুক্তি বনাম ফেনী নদীর পানি

আমাদের নতুন সময় : 12/10/2019

মোহাম্মদ এ আরাফাত

তিস্তা আর ফেনী নদীর বিষয়টি এক পাল্লাই মাপাটাই মিথ্যা প্রচারণার অংশ। তিস্তা নিয়ে ডধঃবৎ ঝযধৎরহম অমৎববসবহঃ বা পানি বণ্টন চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়ে আছে ২০১১ সাল থেকেই। শেখ হাসিনার উদ্যোগেই এটি হয়েছে। এখন সই করার অপেক্ষাই। তিস্তার বিষয়টি হাজার হাজার কিউসেক পানি বণ্টনের বিষয় যে কারণে এটি অনেক জটিল। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সবসময়ই এটি স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলো এবং আছে। কিন্তু বাগড়া বাধিয়েছে মমতা ব্যানার্জী। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার পানি বণ্টন প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারে না। সেখানেই সমস্যা হচ্ছে। পদ্মা নদীর পানি চুক্তিও কিন্তু শেখ হাসিনাই করেছিলেন এটা ভুলে গেলে চলবে না।
ফেনী নদীর পানির সঙ্গে ডধঃবৎ ঝযধৎরহম অমৎববসবহঃ বা পানি বণ্টন চুক্তি হয়নি। সেখানে মাত্র ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতীয় অংশের নদী থেকে খাবার পানির জন্য নেয়া হবে। পুরো বিষটি আলাদা, এটি পানি বণ্টন চুক্তি নয়। ফেনী নদীর সর্বনি¤œ পানি প্রবাহ ৭৯৪ কিউসেক। ১.৮২ কিউসেক পানি হলো ফেনী নদীর সর্বনি¤œ পানি প্রবাহের মাত্র ০.২৩ শতাংশ এবং বাৎসরিক গড় পানি প্রবাহের ০.০৯৬ শতাংশ। সাধারণভাবে মাথা খাটালেই তো বোঝা যায় এতে কতোটুকু কি হতে পারে। সাবরুম আমাদের একটা উপজেলা শহরের মতো। এক পাড়ে আমাদের রামগড়, ওপাড়ে সাবরুম। নদীর মাঝ বরাবর সীমান্তরেখা। একটি ছোট্ট শহরের পানীয় জল কতোটুকু লাগে? যেটুকু পানি নেবে তা ফেনী নদীর সর্বনি¤œ পানি প্রবাহের ০.২৩ শতাংশ। এটুকু পানি না জানিয়েও যদি নিয়ে যেতো, আমরা টেরও পেতাম না। এই পানি যদি আমরা না দিই তাহলে ত্রিপুরার এই এলাকার মানুষের খাবার পানি সংস্থানের জন্য তাদের ভ‚গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করতে হতো। সাবরুমে ভ‚গর্ভস্থ পানি উঠালে তা বাংলাদেশের মাটির নিচেও প্রভাব পড়তো। তাতে বরং বাংলাদেশের বেশি ক্ষতি হতো। এখন যে সামান্য পানি আমরা দিচ্ছি তাতে আমাদের কোনোই ক্ষতি নেই। এছাড়াও ত্রিপুরার এই সাবরুমেই মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের অনেক মুক্তিযাদ্ধা আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই উপজেলা শহরের মানুষ আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, পানিসহ বিভিন্নভাবে আতিথিয়তা দিয়েছিলো। কাজেই আমরা সামান্য কিছু পানি দিয়ে তাদের উপকার করছি, এখানে আমাদের কোনো ক্ষতিই হবে না। এখন আমরা বলতে পারবো যে, আমরা মানবিকতা দেখিয়েছি। আন্তর্জাতিক ক‚টনীতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের ইতিবাচক ইঙ্গিত বা সংকেত দেয়ার প্রয়োজন আছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]