• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » পাগলা মিজানের উত্থানের নেপথ্যে সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী


পাগলা মিজানের উত্থানের নেপথ্যে সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 12/10/2019

মাসুদ আলম : মোহাম্মদপুর এলাকায় হোটেল বয় হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান। ১৯৮৯ সালে ধানম-ি ৩২ নম্বরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিও তিনি। সাজা থেকে বাঁচতে মিজানুর রহমান থেকে হয়ে যান হাবিবুর রহমান। ফ্রিডম পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর গেরিলা প্রশিক্ষণ নিতে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন মিজান। এরপর ১৯৯২ সালে মোহাম্মদপুর ৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৪ সালে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থের মুখ দেখতে শুরু করেন। জেনেভা ক্যাম্পে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজি করে ভাগ্য ফেরানো চেষ্টা করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় চলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসা।
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এলজিআরডিতে ছিলো মিজান ও তার ভাই হেলালের এক আধিপত্য। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেলাল ট্রেডিং করপোরেশনের নামে ভাগিয়ে নেন কোটি কোটি টাকার কাজ। এছাড়া ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা। সেই টাকায় আমেরিকা ও অস্ট্রলিয়ায় গড়েছে বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার এসব টাকা ভাগ পেতেন মহানগর থেকে কেন্দ্রীয় কিছু নেতাও।
এদিকে র‌্যাব তাকে ৭ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূণ্য তথ্যও দিয়েছেন তিনি। মিজান চেয়েছিলো ভারত হয়ে অস্ট্রলিয়া অথবা আমেরিকায় পালিয়ে যাবে।
৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন মিজান। টানা ১১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় মোহাম্মদপুরে ত্রাসের রাজনৈতি করে মিজান। তার ভয়ে পুরো এলাকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলে তটস্থ। কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে, তাকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করতো। তার কাউন্সিলরের কার্যালয় ছিলো টর্চারসেল হিসেবে পরিচিত। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি থেকে শুরু করে এমন কোনো কাজ নেই মিজান করেনি। মিজানের বিশাল বাহিনী থাকায় সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রী অনেক কিছু জেনেও চুপ থাকতেন। তুহিন ও রাজিব নামে তার দুই সহযোগী রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় আওয়াম লীগের নেতাকর্মীরা মিষ্টিও বিতরণ করেছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]