আবরার হত্যায় শামীম-মোয়াজ রিমান্ডে, ৫ জন কারাগারে

আমাদের নতুন সময় : 13/10/2019

মামুন আহম্মেদ খান : বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় শামীম বিল্লাহ এবং মোয়াজের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আর ৫ আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া ৫ আসামি হলেন- বহিস্কৃত বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি ও খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড এবং ৫ আসামিকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) রিমান্ড চাওয়া ওই দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, আবরার হত্যা মামলা দেশবাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বিশ্ব তাকিয়ে আছে এ মামলার কি বিচার হয়। আসামিরা এজাহারভূক্ত। আবরার মেধাবী ছাত্র। বুয়েট থেকে বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে সে তার বাবা-মায়ের মুখ উজ্জল করবে। কিন্তু বিনা কারণে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করছি।
শামীমের পক্ষে তার আইনজীবী ফকির আব্দুল মজিদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, শামীমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। দুর্ভাগ্যক্রমে তাকে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সে পাশের রুম থেকে আসার পথে দ্বিতীয় ভিডিও ফুটেজে তাকে দেখা গেছে। এ মামলায় ঘটনাস্থল থেকে যারা গ্রেপ্তার হয়ে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে শামীমের বিরুদ্ধে তারা কিছু বলে নাই। এ ঘটনায় সারা জাতি শোকাহত, মর্মাহত। আমরাও শোকাহত, মর্মাহত। মামলাটির তদন্ত চলছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে আসুক। এ অবস্থায় শামীমের রিমান্ড বাতিলের প্রার্থণা করছি। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
আসামি মোয়াজের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হোসেন বলেন, আসামি বুয়েটে শিক্ষার্থী। হলের করিডোরে আসা যাওয়ার পথে তাকে দেখা গেছে। যে আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা কেউ তার নাম বলেনি। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি উত্তরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, রাত আড়াইটার সময় আসামিরা আসা-যাওয়া করছিল। তাদের এত পড়াশোনা। আসলে তারা সেখানে পাহারা দিচ্ছিল।
উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কাছে কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। তবে আসামিরা কোন কথা বলেননি।
এরপর আদালত ওই দুই আসামির ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। আর ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]