• প্রচ্ছদ » » ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ মানেই কি মানুষের বাক স্বাধীনতা বন্ধ?


ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ মানেই কি মানুষের বাক স্বাধীনতা বন্ধ?

আমাদের নতুন সময় : 13/10/2019

 

কামরুল হাসান মামুন : ছাত্ররাজনীতি বন্ধের বিরোধী যারা তাদের পড়হপবৎহ-এর জায়গাটা আমি বুঝতে পারি। তারা সংখ্যায় কম হলেও তারাই বর্তমান বাংলাদেশের সেরা মানুষ। বাংলাদেশ নামক জননীর সব সমস্যায় তারাই রক্তের শ্বেতকণিকা হয়ে মোকাবেলা করার চেষ্টা করে। তারা একটি সুস্থ রাজনীতি করে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তাদের অতি হধরাব মনে হয়। তারা বর্তমান চলমান রাজনীতির বাস্তবতা বিবর্জিত মনে হয়। দেশে এখন ছাত্ররাজনীতি বা সাধারণ রাজনীতির নামে যা চলছে সেটাকে রাজনীতি না বলে শয়তানি রাজনীতি বললে কম ছাড়া বেশি বলা হবে না। যারা ছাত্ররাজনীতির পক্ষে তারা বলুন তো দেশে তো এতোদিন ছাত্ররাজনীতি চলছিলোই। তাতে দেশের কি মঙ্গলটা হচ্ছিলো? এই ছাত্ররাজনীতি কি দেশের বিরাজমান অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, ভেজাল, নদী ও পরিবেশ দূষণ, হত্যা, গুম, খুন, ইত্যাদি নামক জাতীয় ইস্যুতে কোনো বড় ধরনের প্রতিবাদ করেছে? শিক্ষার মানের যে ক্রমাগতভাবে ধস নামছে তাকে রক্ষার জন্য কোনো বড় ধরনের প্রতিবাদ করেছে? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে হলে যে টর্চার চলছিলো তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের প্রতিবাদ করেছে? দেশের ব্যাংকগুলো যে লুট হয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে কি কোনো বড় ধরনের প্রতিবাদ করেছে? ছাত্র-শিক্ষকরা নানা সময় লাঞ্ছিত হচ্ছে তার বিরুদ্ধে কি কোনো বড় ধরনের প্রতিবাদ করেছে? বরং উল্টোটা হয়েছে। যারা ছাত্ররাজনীতি করেনি তারা কিছুটা প্রতিবাদ প্রতিরোধ করেছে যেমন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা বিরোধী আন্দোলন। আমরা কি তাহলে এই ছাত্র রাজনীতি পুষবো যেই রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ গোটা ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করবে? আমরা কি তাহলে এই ছাত্র রাজনীতি পুষবো যেই রাজনীতির দীক্ষা পেলে ছাত্ররা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। আমরা কি তাহলে এই ছাত্ররাজনীতি পুষবো যেই রাজনীতির দীক্ষা পেলে ছাত্ররা কেবল তার দলের বন্দনা করবে? আমরা কি তাহলে এই ছাত্র রাজনীতি পুষবো যেই রাজনীতির দীক্ষা পেলে ছাত্ররা নিজ দলের ভেতরে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের নামে শাস্তি পেতে হবে? আমাদের ছাত্রনেতারা কি ছাত্ররাজনীতি করছে? তারা কি ছাত্রদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানায়? শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানায়? হ্যাঁ গুটিকয়েক দল আছে যারা ভালো কাজ করছে। এই গুটিকয়েকের ভালো কাজের কথা ভেবে অধিকাংশের মন্দটা ভুলে যাবো?
উপরের কথাগুলো কোনো একটি দলের বিরুদ্ধে নয়। বেশি পেছনে না গেলেও ৯০-এর পর থেকে (যখন থেকে আমরা বলি স্বৈরাচারের পতন হয়েছে আর গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে) যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই ক্যাম্পাসে একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করেছে যার মাত্রা দিন যতো গড়িয়েছে সেটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। ছাত্রদল ক্ষমতায় এলে ছাত্রলীগ বিতাড়িত হয়েছে আর ছাত্রলীগ ক্ষমতায় এলে ছাত্রদল বিতাড়িত হয়েছে। আর সবসময়ই বাম ঘরানাররা কোনো রকমে টিকে থেকেছে। এগুলো কি রাজনীতি? এগুলোর মাধ্যমে কি ছাত্ররা সহনশীলতা শিখে? এই পদ্ধতিতে যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছে তারা সবাই একদলীয় চিন্তার মানুষ। তারাই এখন কর্মক্ষেত্রে। তারাই এখন আজকের বাবা-মা। এই বাবা-মায়ের সন্তানরাও সেরকম শিক্ষাই পাবে? আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসেও একই রকম শিক্ষা পাচ্ছে। এভাবেই দেশে আজ রাজনীতির নামে অপরাজনীতি বা পচা রাজনীতি চলছে। এ থেকে মুক্তির উপায় কি? এই অবস্থাকে জারি রেখে এ থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। কোনো কিছু যদি সম্পূর্ণ ভুল একটি পথে থাকে তাকে উল্টোদিকে ঘোরাতে হলে তার গতি একসময় শূন্য হতে হয়। এটাই বিজ্ঞান। তাই সাময়িকভাবে হলেও বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। কয়েক বছর বন্ধ রেখে গবেষণা করে দেখা দরকার এতে আমরা ভালোর দিকে যাচ্ছি নাকি মন্দের দিকে যাচ্ছি? অনেকে বলেন ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলে নাকি ধর্মীয় উগ্রবাদিতা বৃদ্ধি পাবে। এসব জুজুর ভয় আর দেখবেন না। বর্তমান ছাত্ররাজনীতি তাদের প্রতিহত করতে কোনো ভূমিকা রাখেনি।
ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ মানেই কি মানুষের বাক স্বাধীনতা বন্ধ? তখন মানুষ আরও বেশি মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে। এখন আমার অনেক সহকর্মীকে দেখি তারা দেশের অনেক কিছু নিয়েই ক্ষুব্ধ, কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষকদের রোষানলে পড়ে হয়রানি হওয়ার ভয়ে চুপ থাকে। তাহলে বুঝুন খোদ শিক্ষকরাও এখন কথা বলতে পারে না। জুনিয়র শিক্ষকরা তাদের প্রমোশনে ঝামেলার কথা ভাবে, শিক্ষা ছুটির ঝামেলা হওয়ার কথা ভাবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা ভাবে। তাই এই রাজনীতি দেশের কোনো মঙ্গল করছে না। একবার ভাবুন তো নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা কিংবা কোটা বিরোধী আন্দোলনের কথা? যারা এই আন্দোলন করেছে তারা কোনো ছাত্ররাজনীতি থেকে দীক্ষা পেয়েছে? এই আন্দোলনগুলো করেছে সাধারণ ছাত্ররা। পরিবেশ পেলে এই সাধারণ ছেলেরা অসাধারণ হয়ে উঠবে। আমি একজন শিক্ষক বলছি। আমাদের মেধাবী ছেলেমেয়েদের মেধা হত্যা করবেন না। তাদের স্বাভাবিক ছাত্র জীবন দিন। তাদের আবাসিক হলগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দিন। দেখবেন দেশটা সত্যি সত্যি বদলে যাবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]