ডেঙ্গুর প্রকোপ কমায় ঝিমিয়ে পড়েছে মশক নিধন কার্যক্রম

আমাদের নতুন সময় : 13/10/2019

 

সুজিৎ নন্দী : রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমতেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু নিধন অভিযান স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অথচ ডেঙ্গুর মৌসুম এখনো শেষ হয়নি।
এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হিসাব মতে, চলতি বছরের প্রায় ৯২ হাজার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে সাড়ে ৮৮ হাজার। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৮, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে এবার সবচেয়ে বেশি ছিলো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি।
মেরুল বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত একমাসে এই এলাকায় কেউ ওষুধ দিতে আসেনি। একই অবস্থা ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ মিনার রোড ও তার বিপরীতে কল্যান ভবন এলাকার আশপাশে। স্থানীয়রা জানান, পুরো ডেঙ্গু মৌসুমে ডিএনসিসির কর্মীরা মাত্র ৪/৫ দিন এই এলাকায় ওষুধ দিয়েছে। এলাকার মানুষ নিজ উদ্যোগে মেশিন কিনে ওষুধ দিয়েছে। কমিশনার দেওয়ান মান্নান বলেন, জনবল কম থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমাদের কার্যক্রম চলছে।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, কাজ কমেনি। এখন সার্ভের কাজ চলছে। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই কাজ আগামী ১৮ তারিখে পর্যন্ত চলবে। ১২ জন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা এবং ১০ জন উপদেষ্টা মশার উৎপত্তিস্থল নির্ণয় করতে কাজ করছে। গতবারের এই সময় যে পরিমান মশা ছিলো এবার তুলনামূলক কম। ১৫দিন ব্যাপী এ সার্ভে শেষে নতুন করে ওষুধ দেয়ার কাজ শুরু হবে।
মশকনিধনে ডিএনসিসি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ১০ দিন করে ২০ দিন চিরুনি অভিযান চালায়। তবে অভিযানের পর মশকনিধন কাজ ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ অনেকের। মশা মারার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, মশকনিধনের নিয়মিত কার্যক্রম এখনো চলছে। সবকটি ওয়ার্ডে বাড়তি লোকবল ও সরঞ্জাম দিয়ে মশার ওষুধ ও মশা মারার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। তবে কাজের কোনো ঘাটতি নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়ার্ডগুলোতে মশকনিধন কার্যক্রমে ঢিলেমির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশির ভাগ এলাকার মানুষ জানান, মাস দেড়েক আগে সপ্তাহে এবদিন ওষুধ ছিটাতে দেখেছি। তবে এখন ১৫দিন পরপর ওষুধ ছিটানো হয়। আগের মতো সব জায়গায় মশকনিধনকর্মীরা যান না। নবীনগর, বিদ্যুৎ গলি, শহীদ ফারুক সড়কের আশপাশ, বটতলা, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় বাসিন্দারা বলেন, মশকনিধনকর্মীদের নিয়মিত ওষুধ দিতে দেখা যায় না। ২০দিনে একবার ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ওড়াতে দেখা যায়। তবে লার্ভা ধ্বংসের ওষুধ ছিটাতে দেখা যায়নি। কাউন্সিলর বাদল সরদার বলেন, আমার ওয়ার্ডে তিনজন মশকনিধনকর্মী আছেন। ওয়ার্ডকে ১০ ভাগ করে তারা নিয়মিত ওষুধ ছিটান। সেই হিসাবে একেকটি এলাকা তিন-চার দিন পরপর ওষুধ পায়।
রামপুরা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, এখনো ডেঙ্গু আতঙ্কে আছি। মশা কামড়ালেই ভয় পাই। মশকনিধনে সিটি করপোরেশনের বিশেষ অভিযান চলার সময় এলাকায় ওষুধ ছিটাতে দেখেছি। এরপর গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ওষুধ ছিটাতে দেখিনি। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ধতন কর্মকর্তা জানান, শুরুর দিকে এ দেশের চিকিৎসকরা ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াইয়ে একবারে অনভিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু সে অবস্থা এখন বদলেছে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় একটি চিকিৎসা সহায়িকা তৈরি করা আছে। তা প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]