• প্রচ্ছদ » সাবলিড » দাবি মানার পরও বুয়েটে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর


দাবি মানার পরও বুয়েটে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

আমাদের নতুন সময় : 13/10/2019

বাশার নূরু : শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বুয়েটে হত্যাকা-ের পর কারো আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করিনি, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে। আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী হিসেবেই দেখি, অত্যাচারীকে অত্যাচারী হিসেবেই দেখি। কোনো অন্যায় অবিচার সহ্য করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। বুয়েটের ঘটনা শোনার পরপরই আমি পুলিশকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তবে তারা বুয়েটে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার সময় বাধার মুখে পড়ে। এটা কেন জানি না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত কয়জন ছাত্র হত্যার বিচার হয়েছে? ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারির মাঝে সনি যখন মারা গেলো তখন কারা প্রতিবাদ করেছিল। সনি হত্যার সময় কোথায় ছিলেন অ্যালামনাইয়ের সদস্যরা। বুয়েটের যারা অ্যালামনাই তারা তো তখন মাঠেই নামতে পারেনি। বিচার চায়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবাই কথা বলতে পারে। সবাই কথা বলার অধিকার পায়।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ ছাত্রদের যে ১০ দফা দাবি, সবগুলো মেনে নিয়েছেন ভিসি। তারপরও তারা নাকি আন্দোলন করবে। কেন করবে জানি না, এরপরও আন্দোলন করার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে? তিনি বলেন, কোনো অন্যায়-অবিচার আমরা সহ্য করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। যারাই করবে, যার বিরুদ্ধে করবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ধরে রাখতে হবে। বুয়েটের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে পুলিশের আইজিপি ছুটে আসলো। বললো, তারা (আন্দোলনকারী) বাধা দিচ্ছে। আমি বললাম, তারা কী চায়? বললো, তারা কপি চায়। আমি বললাম, কপি দিয়ে দাও। তাড়াতাড়ি ফুটেজটা নাও। ফুটেজটা নিলেই তো আমরা তাড়াতাড়ি আসামি চিহ্নিত করতে পারবো। দেখতে পারবো, কে গেছে না গেছে। তাদের ধরতে পারবো। তিনি বলেন, তিন-চার ঘণ্টা সময় যদি নষ্ট না করতো, তাহলে আরও আগেই (দোষীদের) ধরতে পারতো। অনেকে পালাতো পারতো না। সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়তে পারতো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু করে এরশাদ, খালেদা জিয়া- সব আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রদের এক হাতে অস্ত্র, আরেক হাতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। অন্য সরকারের আমলে কয়টা খুনের বিচার হয়েছে সে প্রশ্নও করেন তিনি। অতীতে বিভিন্ন খুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন মানবাধিকারবোধ, ন্যায়-নীতিবোধ কোথায় ছিল?
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি ও গ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমরা কাজ করছি। বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো, কারও কাছে মাথা নিচু করে নয়। যদি ন্যায্য অধিকার আদায় করে থাকি আমি শেখ হাসিনাই করেছি। লাভ লোকসান হিসাব করলে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি। প্রধানমন্ত্রী মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ সম্মেলনে আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]