• প্রচ্ছদ » স্ক্রল » মাংস আমদানি বন্ধ না করলে ট্যানারি শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বললেন শাহীন আহমেদ রবিউল আলম বললেন, মাংস আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার


মাংস আমদানি বন্ধ না করলে ট্যানারি শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বললেন শাহীন আহমেদ রবিউল আলম বললেন, মাংস আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার

আমাদের নতুন সময় : 13/10/2019

আমিরুল ইসলাম : গত পাঁচ মাসে দেশের ব্যবসায়ীরা প্রায় ২২ লাখ ৫২ হাজার কেজি মহিষের মাংস আমদানি করেছে। দেশে মাংসের পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও আমদানির বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে মাংস আমদানির একটা নীতিমালা থাকা উচিত। মাংস উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার পরও কেন আমাদের দেশে মাংস আমদানি করা হবে। আমাদের যদি সক্ষমতা না থাকতো বা কম উৎপাদন হতো, তাহলে আমদানি করা ঠিক ছিলো। মাংস আমদানি করা হলে দেশীয় চামড়া শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্রাজিল যাওয়ার পর সেদেশের সরকার বলেছে তাদের দেশ থেকে মাংস আমদানি করার জন্য। গত বছর প্রায় ছয় হাজার টন মাংস আমদানি করা হয়েছে। এর আগের বছর চার হাজার টন আমদানি করা হয়েছে। এটা যদি বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের দেশের চামড়া শিল্পের জন্য বিরাট হুমকি হবে। ট্যানারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারিভাবে মাংস আমদানি নিষিদ্ধ থাকার পরও মাংস আমদানি করা হচ্ছে। মাংস আমদানি বন্ধে বন্দরগুলোতে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দরকার। গরুর মাংস এবং মহিষের মাংস বেশিরভাগ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। ভারতে প্রতি কেজি গরুর মাংস দুইশ টাকায় পাওয়া যায়। সেটা বাংলাদেশে আমদানি করে ৩২৫-৩৫০ টকা বিক্রি করা যায়। বাংলাদেশের ক্রেতারা বুঝতেই পারে না, মাংসটা আমদানি করা কিনা। মাংস আমদানি করে একটা শ্রেণি বড় অঙ্কের মুনাফা করছে।
মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেছেন, আমাদের দেশের অন্যতম রপ্তানি খাত পশুর বর্জ্য। বাংলাদেশে মাংস আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ পণ্য কিভাবে আমদানি করা হয়? মাংস আমদানি করা হলে আমাদের চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দুর্নীতিবাজ মাংস আমদানিকারকদের চিহ্নিত করে সরকার কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। চামড়া শিল্পের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। চামড়া শিল্পনগরীর জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে চামড়া আমদানি করতে হবে। আমরা এখনো সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। মাংস যদি আমদানি করা হয় তাহলে আমাদের দেশের চামড়া শিল্প কিভাবে চলবে? এই দুর্নীতির সঙ্গে কারা যুক্ত রয়েছে। কৃষি রক্ষার্থে সরকার শত শত কোটি টাকা খরচ করছে, ইলিশ মাছ রক্ষা করার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পশু পালন উন্নয়নে এতো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আমাদের দেশে বহু চরাঞ্চল ও বনাঞ্চল রয়েছে পশু পালন করার জন্য। এই অঞ্চলগুলোকে পশু পালনের আওতায় আনতে পারলে পুরো বিশ্বে আমরা মাংস রপ্তানি করতে পারতাম। এক পদ্মা নদীর মাছ আমরা সারাবিশ্বের মানুষকে খাওয়াতে পারছি। আমাদের দেশের আবহাওয়া পশু পালনের জন্য এতো উপযোগী থাকা সত্ত্বেও আমারা কেন এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]