• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের,ফারমার্স ব্যাংকের কর্মচারীর নামে কোম্পানি খুলে ১১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ


মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের,ফারমার্স ব্যাংকের কর্মচারীর নামে কোম্পানি খুলে ১১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আমাদের নতুন সময় : 13/10/2019

 

জান্নাতুল পান্না : জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার কমিশন নতুন করে এই মামলার অনুমোদন দেয়।
ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় এর আগে পাঁচটি মামলা হয়েছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদন হওয়া মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৮৮ কোটি ১৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হচ্ছে। সুদসহ ওই টাকা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার।
জানা যায়, মামলায় আসামি করা হচ্ছে আটজনকে। তাঁরা হলেন, ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, তাঁর ভাই মাজেদুল হক ওরফে শামীম চিশতী, ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম এম শামীম, শাবাবা অ্যাপারেলসের মালিক মো. আবদুল ওয়াদুদ ওরফে কামরুল, এডিএম ডাইং অ্যান্ড ওয়াশিংয়ের মালিক রাশেদ আলী, তনুজ করপোরেশনের মালিক মো. মেফতাহ ফেরদৌস, মোহাম্মদ আলী ট্রান্সপোর্টের মালিক মো. গোলাম সারোয়ার ও ক্যানাম প্রোডাক্টসের মালিক ইসমাইল হাওলাদার।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাহবুবুল হক চিশতীর ভাই মাজেদুল হক চিশতী তাঁর কর্মচারী আবদুল ওয়াদুদকে মালিক সাজিয়ে শাবাবা অ্যাপারেলস নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। প্রতিষ্ঠানটি ফারমার্স ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ফান্ডেড ঋণসুবিধা নেয়। এ ছাড়া ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নন-ফান্ডেড ১৫ কোটি টাকা সুবিধার পরিবর্তে ৩৯ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার টাকার ঋণসুবিধা দেওয়া হয়, যা সুদাসলে ৪৫ কোটি ৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা দাঁড়ায়। এ বিষয়ে ব্যাংকটির সাবেক এমডি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ব্যাংকের প্রভাবশালী পরিচালক মাহবুবুল হক চিশতী তাঁর ভাইয়ের মাধ্যমে নিজেই সুবিধাভোগী ছিলেন।
একইভাবে মাজেদুল হক চিশতী আরেক কর্মচারী রাশেদ আলীকে মালিক সাজিয়ে এডিএম ডাইং নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এর মাধ্যমে ১৭ কোটি টাকা ঋণসুবিধার পরিবর্তে ৫৫ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার টাকা ঋণ নেন। মাজেদুল হক চিশতীর কাছে ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাগাদা দিলে তিনি পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও পরে পরিশোধ করেননি। অনুসন্ধান প্রতিবেদন বলছে, মাহবুবুল হক চিশতী অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ভাইকে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেন। এ ছাড়া ব্যাংকটির এমডি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেন। তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। সম্পাদনা: শাহিদ আবেদীন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]