• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদ-পদবী পেতে নেতাদের দৌঁড়ঝাপ


আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদ-পদবী পেতে নেতাদের দৌঁড়ঝাপ

আমাদের নতুন সময় : 14/10/2019

 

সমীরণ রায় : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর। একই সঙ্গে সহযোগি সংগঠনের সম্মেলনেরও দিনক্ষণ নিধারণ করে দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এরপর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা পদ-পদবী পেতে হাইকমান্ডের কাছে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতি করে দল এবং সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীরাই অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িয়ে বনে গেছেন কোটিপতি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। ফলে অনেক নেতাই গাঢাকা দিয়েছেন। সম্প্রতি ক্যাসিনোকা-ে যুবলীগের একাধিক নেতা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে। দেশের ভেতরে ও বাইরে পলাতকের সংখ্যাও কম নয়। শীর্ষ কয়েক নেতাও রয়েছেন আতঙ্কে। একই অবস্থা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের। এ অবস্থায় ৫ সহযোগী সংগঠন ঢেলে সাজানোর লক্ষে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব নেতারা গাঢাকা দিলেও পদ-পদবী পেতে দলের হাইকমান্ডের কাছে তদবির চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, দলে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে কেউ টাকা দিয়ে পদ-পদবী কিনতেও লবিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে সব কিছু ছাপিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে নতুন কমিটিতে। বাদ পড়বেন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী, দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ নেতারা। আসতে পারে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ কেউ। ইতিমধ্যে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান শুরু করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ইতোমধ্যে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছেন এমন নেতাদের বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে আসন্ন সম্মেলনে প্রার্থিতা হওয়া-না হওয়া নিয়েও দোলাচলে রয়েছেন অনেক নেতারাও।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগসহ সহযোগি সংগঠনের সম্মেলনে কোনো লবিং তদবির চলবে না। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে সুযোগ দেওয়া হবে না। অনুপ্রবেশকারীরা সংগঠনে ঢুকে পড়লে দলকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে। ফলে যারা সৎ, শিক্ষিত, দক্ষ, মেধাবী, পরিশ্রমী ও ত্যাগি তাদেরকে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে।
আগামী ৬ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ২৩ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ ও ২৯ নভেম্বর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে আওয়ামী লীগ।
জানা গেছে, কিছুদিন আগেও যেসব নেতারা সংগঠনের নেতৃত্ব পেতে মুখিয়ে ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই আজ নীরব। তাদের প্রার্থিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোহাই দেন। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ যদি মনে করেন, আমাদের নেতৃত্বে রাখবেন, তাহলে আছি, না দিলে নেই। তবে ভেতরে ভেতরে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, আওয়ামী লীগের ভতরে গ্রুপ ও দল ভারী করার জন্য যারা বিএনপি-জামায়াতকে দলে ঢুকিয়েছেন, আর যারা ঢুকে পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে ঝেঁটিয়ে বের করে দিতে হবে।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীরা তো পদ-পদবী প্রত্যাশী হবেনই। তারা যার যার অবস্থান থেকে লবিং-তদবির করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি আগামীতে সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবো কি না, সেটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।
তিনি বলেন, সম্মেলন কিভাবে হবে তার পরামর্শ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২০১২ সালের ১১ জুলাই, যুবলীগের ১৪ জুলাই, শ্রমিক লীগের ১৭ জুলাই এবং কৃষক লীগের ১৯ জুলাই সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ৩ বছর মেয়াদি কমিটিগুলোর সময় ২০১৫ সালেই শেষ হয়ে গেছে। সম্পাদনা: শাহিদ আবেদীন মিন্টু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]