চলতি অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজনীতির নতুন মাত্রায়!

আমাদের নতুন সময় : 14/10/2019

 

বিশ্বজিৎ দত্ত : আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই চলতি অক্টোবর মাসে এসে দুটি নতুন মাত্রায় নিজেদের যুক্ত করেছে। আওয়ামীলীগ দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছে আর বিএনপি ফিরে এসেছে তার পুরোনো মতবাদ ভারত বিরোধিতায়। দেশের চলমান রাজনীতিতে এ দুটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন,আগামী শীতের রাজনীতি এ দুটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আওয়ামী লীগ গত সেপ্টেম্বরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপাতি ও সাধারণ সম্পাদককে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিস্কার করে। তখনো মনে করা হয়েছিল এটি নিয়মিত ঘটনার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। কিন্তু পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসি নিউইয়র্কে এক সভায় বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। কারণ যারা দুর্নীতি করছে তাদের একটা ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।এরপরপরই তিনি ভারত সফরে যান।সেখান থেকে এসে সংবাদ সম্মেলনে আবারো বলেন,দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।আমার আত্মীয়ও যদি দুর্নীতি করে তবে ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের ভেতরে এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ফলে দলে প্রাথমিক ট্রমার সৃষ্টি হয়েছে। বের হয়ে আসছে দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগ বিরোধীদের নাম। আবার এদের দলে যারা ঢুকিয়েছে তাদের নামও। বের হয়ে আসছে অবৈধ অর্থের উৎস্য। এই শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগ যেমন লাভবান হবে তেমনিভাবে আওয়ামী লীগের অবৈধ অর্থউপার্জনকারীরা গোপনে ভীরে যেতে পারে সরকার বিরোধীতায়। সুতরাং শীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ব্যবস্থ থাকতে হতে পারে অন্তর্ঘাত ম্কোবেলায়।
বিএনপি ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বয়কট করে। এই বয়কটের আগে পল্টন ময়দানের ভাষণে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো ভারত বিরোধিতা থেকে সরে আসেন। তিনি সরাসরি ভারতের নাম না বলে বলেন, একটি প্রতিবেশি দেশের কথা। এরপর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপি ভারত বিরোধী আর কোন বক্তব্য দেয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পরপরই বিএনপি অক্টোবরে আবারো সরাসরি ভারত বিরোধিতায় নেমেছে। তারা বলেছে এলপিজি গ্যাস বিক্রির মাধ্যমে শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কাতার থেকে এলপিজি এনে বোতলে করে ভারতে এলপিজি রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এটা একটি বাণিজ্য। বিশ্বের সকল সভ্যদেশই এধরনের বাণিজ্য করে। অন্যটি হলো ভারত কে চট্টগ্রাম ও মঙলা বন্দর ব্যবহার করতে দেয়া। এখানেও শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের সকল বন্দরই সকল দেশ ব্যবহার করে। তিনি বলেন, দেশ এমন কোন বস্তু নয় যে তুলে এনে বিক্রি করে দেয়া যায়। রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সামনে তেমন কোন ইস্যু না থাকায় তারা প্রায় বাতিল হয়ে যাওয়া পুরোনো ভারত বিরোধিতাই এই শীতে তার রাজনৈতিক পুজি। তবে তার লাভ হতে পারে আওয়ামী লীগের অন্তর্ঘাতমূলক অর্থের কারণে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]