• প্রচ্ছদ » » নিজেকে মুক্ত করে ভাবুন এ দায় কাদের?


নিজেকে মুক্ত করে ভাবুন এ দায় কাদের?

আমাদের নতুন সময় : 14/10/2019

আবু সাইয়িদ

আবরারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া কোনো হত্যাকাÐ এটি নয়, পরিকল্পনা করে সময় নিয়ে হত্যাকাÐ। খুনি যারা তারা পেশাদার কোনো খুনি নয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী একদল তরুণ। তারা দীর্ঘ সময় ধরে তাদেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রকে হত্যা করেছে। আবরারের মৃত্যুতে তার পরিবার শোকাহত, স্বজনরা শোকাহত, বন্ধুরা শোকাহত, শিক্ষকরা শোকাহত, জাতি শোকাহত।
শেষ পর্যন্ত চার্জশিটে খুনি হিসেবে কয়জনের নাম আসবে জানি না। তবে আনুমানিক বিশজন হতে পারে, তা মনে হচ্ছে। এই খুনিদের পরিবার আছে, স্বজন আছে, বন্ধু আছে, তাদের বর্তমান এবং অতীতের শিক্ষক আছে, হয়তো তাদের কারও কারও প্রেমিকাও আছেÑ আমরা জানি না তারা কারা? আমাদের জানার কথাও নয়। ধরে নেয়া যায় এই বিশজনের একশজন করে কাছের মানুষ আছে। ভাবা যায় এই দুই হাজার মানুষের মানসিক অবস্থা কি? এই বিশজন ছাত্রের কি সাজা হবে জানি না। তবে যেহেতু একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাÐ তাই অধিকাংশের মৃত্যুদÐ হবার সম্ভাবনা বেশি। কারও কারও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদÐ হতে পারে। আমি একটি সিনেমা বানিয়েছিলাম, ছবিটির নাম ‘অপেক্ষা’। সিনেমাটির কাহিনিী এমনÑ রবিউল এবং রঞ্জু বাংলাদেশের ভিন্ন দুই জেলায় অবস্থিত দুই পরিবারের দুই সদস্য। রঞ্জু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় এবং তারই ছোড়া বোমায় রবিউলের মৃত্যু হয়। রবিউলের একমাত্র জীবিত আত্মীয় দাদী, যিনি স্মৃতিভ্রষ্ট, অপেক্ষায় আছে রবিউলের বাড়ি ফেরা। প্রতি সপ্তাহে রবিউলকে চিঠি লেখে, প্রতিদিন বাসস্ট্যান্ড অথবা নদীর তীরে অপেক্ষা করে। অন্যদিকে রঞ্জুর বাবা-মা যখন জানতে পারে তার ছেলে টেররিস্ট, তখন তারা ভীষণ ভেঙে পড়ে। শুরু হয় বাবার ক্লান্তিহীন ভ্রমণ, ইচ্ছে রঞ্জুর সঙ্গে দেখা করার এবং রঞ্জুকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনার। সিনেমার শেষ দৃশ্যে একটি সংলাপ আছেÑ পাঁচ-ছয় বছরের শিশু রঞ্জু বর্তমানের জঙ্গি রঞ্জুর ঘরের জানালায় এসে বলে, টুক্কু, আমাকে খোঁজ। রঞ্জু জঙ্গি হয়ে গেছে, এই খবরে বাবা-মার যে যন্ত্রণা- রঞ্জু খুনি হয়ে গেছে, এই খবরও বাবা-মার জন্য যন্ত্রণার দিক থেকে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।একবার ভেবে দেখুন, আনুমানিক এই বিশজনের স্বজনদের অবস্থা? তারা কতোটা বেদনা-কষ্ট-লজ্জার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে? বুয়েটে ভর্তি হবার সুযোগ পেয়েছে বলে আনন্দে-উল্লাসে যে ছেলের জন্য মিষ্টি বিতরণ করেছে, গর্বে বুক ফুলে উঠেছে, আজ সেই ছেলের জন্য লজ্জায় নিজেকে কুঁকড়ে ফেলতে হচ্ছে। অনুগ্রহপূর্বক কেউ ভাববেন না যে আমি খুনিদের প্রতি সহানুভ‚তি তৈরি করার চেষ্টা করছি। একবার কি কিছু সময়ের জন্য চোখ বন্ধ করে জগৎসংসারের সব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে ভাবতে পারবেনÑ এই ছেলেদের চেহারা দেখে মনে হয় না এরা খুনি, মনে হয় এরা দেশকে কিছু দিতে এসেছে। অথচ এরা নিজেদের অন্তরটাকে কতোটা নিষ্ঠুর করে তুলেছে। হত্যাকাÐ ঘটানোর পর কতোটা অবলীলায় হলের বারান্দা দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে কোনো একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত তারা। তারা কতো লাখ তরুণের অন্তরকে এ রকম পাথর বানিয়েছে? এ দায় কাদের? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]