• প্রচ্ছদ » » পারিবারিক মূল্যবোধ না থাকায় বেড়েছে অপরাধ, প্রয়োজন সচেতনতা ও শাসন


পারিবারিক মূল্যবোধ না থাকায় বেড়েছে অপরাধ, প্রয়োজন সচেতনতা ও শাসন

আমাদের নতুন সময় : 14/10/2019


শিমুল মাহমুদ : সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, র‌্যাগিং, নৃশংসতম হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স্বাধীনতার পর থেকে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের ছাত্র সংগঠন হল দখলে রেখে গেস্টরুম, রাজনৈতিক কক্ষ, গণরুম, টর্চাররুম তৈরি করেছে। তুচ্ছ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হলেও বাবা-মা কষ্ট পাবেন ভেবে নির্যাতন ও অনাচারের বিষয় চেপে গেছেন। আবরার হত্যাকা-ের পর এসব বিষয় আলোচনায় ওঠে এসেছে। এছাড়া দুর্গা পূজায় তুচ্ছ ঘটনায় ময়মনসিংহে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে মারা যান কলেজছাত্র শাওন ভট্টাচার্য। সব মিলে তারুণ্যের মধ্যে এক অস্থিরতা ও অপরাধবোধ বেড়ে গেছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক মূল্যবোধ না থাকা, অপরাধ প্রবণতা থেকে বড় হওয়া, ছোটবেলা থেকে মাদক সেবন, নানা কারণে হতাশার, হীনমণ্যতা, লোভ, সীমাহীন চাহিদা ও হঠাৎ ক্ষমতা পেয়ে যাওয়া থেকেই শিক্ষাথীরা এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শুধু আইনের প্রয়োগ ও কঠোরতায় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটবে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শাসন, সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত রাখা।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই থাকা উচিৎ তবে এটাকে দলীয় কোনো অঙ্গসংগঠন হিসেবে না। স্বাধীনভাবে দেশের স্বার্থে, দলের স্বার্থে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিৎ। ছাত্র রাজনীতিতে র‌্যাগিংসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কারণ দেশে রাজনীতি না থাকা। বাক স্বাধীনতা না থাকা। শহরগুলোতে খেলাধুলার জায়গা নেই, লাইব্রেরি নেই, স্কুল-কলেজে মাঠ নেই, বাগান নেই, বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এরা তো অপরাধে জড়াবেই। এর থেকে উত্তরণ খুব কঠিন কাজ। এর একমাত্র পথ দেশের মানুষকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে। রাজনীতি করতে দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, রাজনীতির যে ছন্দ সে জায়গায়টা এখন আর নেই। আশির দশকে পর থেকে আমরা দেখেছি পুরোপরি টালমাটাল একটা অবস্থা। আরো পেছন থেকে যদি দেখি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে আয়য়ুব খানের আদলে যে পলিটিক্যাল পার্টি রেগোলেশন করে গেছেন। সেখানে প্রত্যাকটি রাজনীতিক দলের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে মূলত ছাত্ররাজনীতি দলের সঙ্গে অতোপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, দল কেন্দ্রিক যদি রাজনীতিটাও থাকতো তবুও ভালো ছিলো। সেটাও অনেকটা খর্ব হয়েছে। এখন রাজনীতি হচ্ছে ব্যক্তি কেন্দ্রীক, ভাইয়ের রাজনীতি, তোষামোদের রাজনীতি। যে দল ক্ষমতায় গেছে তাদের মধ্যে সুবিধাবাদীরা ডুকে পড়েছে। তারা সহজে প্যারাসাইডের মতো মিশে যায়। তাদের আসলে কোনো দল নেই, আর্দশও নেই। তারাই মূলত এ অপরাধগুলো করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নির্বাচন হলে তা কিছুটা কমে আসবে।
মনোবিজ্ঞানী ডা. মোহিত কামাল বলেন, ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে গৌরবের। যারা রাজনীতি করে বড় হয়েছে তারা চট করেই সিন্ধান্ত নিতে পারে। যেকোনো কাজ ভালো করতে পারে, সাহসী হয়। তাদের কারণে অশুভ কোনো শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। আগে র‌্যাগিংয়ের পেছনে একটা কারণ ছিলো আমি সিনিয়র। আমার কথা শুনতে হবে, মানতে হবে অর্থাৎ আমিত্বকে প্রতিষ্ঠা করা। এখন শিক্ষার্থীরা সেগুলাতে না গিয়ে ধ্বংসাত্মকের দিকে গেছে। তিনি আরো বলেন, এছাড়া হঠাৎ ক্ষমতা পেয়ে যাওয়া। বেশি টাকার আগমন, বেশি মাদক সেবন করে দিশেহারা হয়ে যাওয়া থেকে এ ধরনের অপরাধের দিকে চলে যায়। এক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ শিশুকাল থেকে বাচ্চাদের প্রতি মনোযোগ দেয়া। ছোটো বয়সে তারা যেনো ধুমপানে জড়িয়ে না পরে। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা যেনো সংস্কৃতিক কর্মকা-, বিনোদনের সুযোগ পায়।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেছেন, প্রত্যেকটা শাসকগোষ্ঠী তাদের ভীতটাকে শক্তিশালী করার জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করে আসছে। যারা বিরোধী দলে থাকে তারা তখন এর বিরোধী করে আবার যখন তারা নিজেরাই শাসকগোষ্ঠী হয়ে যায়, তখন তারা পুরনো বিষয়টাকে ধরে আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি দেখা যায় সিট বরাদ্দের নামে মিছিল, সভা-সমাবেশে নিয়ে যাওয়া হয়, এর ফলে কৌমলমতি শিক্ষার্থীরাও এগুলো করতে করতে এক সময় প্র্যাকটিস হয়ে যায়। রাজনীতি বুঝুক আর না বুঝুক তারা সে রাজনীতির মধ্যে নিজেকে একপর্যায়ে আটকে যায়। এর ফলে তারা এক ধরনের খারাপ কাজ শুরু করে দেয়। এর জন্য দায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা, হল প্রশাসন ও শিক্ষক রাজনীতি। তাই শিক্ষকদের মধ্যে যদি রাজনীতি মুক্ত না করা যায় এ উত্তরণের পথ নেই। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]