পেঁয়াজের কেজি এখনো ১০০-১২০ টাকা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন ব্যবসায়ীরা

আমাদের নতুন সময় : 14/10/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : মিয়ানমার, মিসর ও গ্রীস থেকে আমদানি শুরুর পর পরই পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও রোববার রাতে হঠাৎ করেই দাম ১০০ ছাড়িয়ে যায়। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সব ধরণের তৎপরতা উপেক্ষা করেই একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় এমনটি করছে বলে দাবি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অপরদিকে ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করছেন, আমদানি করা পেঁয়াজগুলোর অধিকাংশই পঁচা যা কোনো ক্রেতাই কিনতে চায় না। এদিকে নতুন পেঁয়াজ না ওঠায় বাজারে সংকট দেশি পেঁয়াজেরও। তাই সরবরাহ একেবারেই তলানিতে। দাম না বাড়িয়ে আর উপায় নেই।
যদিও রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে কিন্তু কারওয়ানবাজারে এসেই সেই পেঁয়াজের দাম হয়ে যাচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। আর পাড়ার মুদির দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। কিন্তু কোনোভাবেই ১২০ টাকা দাম আদায় যৌক্তিক নয় বলে দাবি করেন শ্যামবাজারের আড়তদার রুনা বাণিজ্যালয়ের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি বলেন, সরবরাহ কম থাকা সত্ত্বেও আমরা কেউই দেশি পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকার বেশি নিচ্ছি না। খুচরা বাজারে এই দাম বড়জোর ৯০ টাকা হতে পারে। তা কোনোভাবেই ১১০ বা ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। এত পেঁয়াজ আমদানি সত্ত্বেও দাম কমছে না কেনো প্রশ্নের জবাবে এই ব্যবসায়ী বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজগুলোর প্রায় ৭৫ ভাগই পঁচা। এসব পেঁয়াজ বিক্রি করলেও কেজিতে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ অংশ পেঁয়াজ পঁচা থাকে। এতে করে ক্রেতারা তা কিনতে চাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে চাপ পড়ছে দেশি পেঁয়াজের ওপর। কিন্তু এই পেঁয়াজের সরবরাহও নাই তাই বাধ্য হয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায় করতে হচ্ছে বলে জানান কারওয়ানবাজারের খান এন্ড সন্স বাণিজ্যালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, আড়ত থেকে দোকানে পেঁয়াজ তোলা বাবদ খরচের হিসাব করলে এই দাম বেশি কিছু না। কিন্তু দাম বাড়লেও চাহিদা কম থাকায় বিক্রি বাড়ে নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে ১২০ টাকা দরে গত রোববার রাত থেকে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন বলে জানান মগবাজার চেয়ারম্যান গলির আফরিন স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারি সোহানুর রহমান। তিনি দাবি করেন পাইকারি বাজার থেকেই ১০০ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পেঁয়াজের বাজার কাদের নিয়ন্ত্রণে আছে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী সংকটের সুযোগ নিয়ে অধিক মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে আমরা তালিকা তৈরি করছি। খুব শিগগীরই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি জানান, চলতি মাসের শেষেই ভারত থেকে পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে।
এদিকে রাজধানীর ৩৫ টি পয়েন্টে এখনো ৪৫ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। টিসিবি’র মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির জানান, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। তবে ট্রাকের পরিমাণ আর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই কর্তৃপক্ষের। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]