• প্রচ্ছদ » » ৯০ দশকের ছাত্রনেতাদের একসময় আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে ফলো করতাম


৯০ দশকের ছাত্রনেতাদের একসময় আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে ফলো করতাম

আমাদের নতুন সময় : 14/10/2019

আরিফ আর হোসেন

আমার এখনো মনে আছে, ৯০ দশকের ছাত্র নেতাদের একসময় আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে ফলো করতাম। কীভাবে হাঁটে, কীভাবে কথা বলে, কীভাবে হাসে, কীভাবে দোকানদারের সঙ্গেওবা কথা বলে। একসময় বড়দের কাছে গল্প শুনতাম, ছাত্রনেতা বাছাই করা হতো কোন বোর্ডে কে স্ট্যান্ড করেছে তার খোঁজ নিয়ে। ‘অমুক ছেলেটা অডিটোরিয়ামে ভালো রবীন্দ্রনাথ আবৃত্তি করেছেÑগলার স্বর ভালো, জ্ঞানও ভালো, ইংলিশও নাকি বলতে পারে বেশ। নিয়ে আসো তাকে, দেখি তার দেশ নিয়ে ভাবনা কি’। আফসোস, দু’দলের কোনো দলই সেই রাজনীতি ধরে রাখতে পারেনি। না ধরে রাখতে পারার ফলটা হয়েছে ভয়ংকর। আবরার ফাহাদ হত্যাকাÐে যে আসামিগুলো ধরা পড়েছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখবেন, সবাই মফস্বল থেকে এসেছে, কারও বাবা দেখলাম ভ্যান চালায়। একজনের মা ডিম বিক্রি করে তার ছেলের পড়াশোনার খরচ চালায়। এই ফ্যামিলির ছেলেরা ঢাকায় এসেই প্রথমে এক আইডেন্টি ক্রাইসিসে ভোগে। আশপাশের শহুরে কালচারের ব্রিলিয়ান্ট ছেলেমেয়েদের ভিড়ে তারা গুটিয়ে থাকে। তাদের অবচেতন মন খুঁজতে থাকে ‘আইডেন্টিটি এস্টাবিøশ করার উপায়’। সাজা রাস্তা তারা পেয়েও যায়। ‘চল পলিটিক্স করি, বড় ভাইদের খুশি করি, ক্যাম্পাসে পাত্তা পাওয়া যাবে’। যে যতো মাস্তানি করতে পারছে, দেখা যাচ্ছে সে ততো সহজেই তাদের বড় ভাইদের খুশি করতে পারছে। আমি শিওর সেদিন তারা আবরারকে পিটিয়েছে তাদের রাজনৈতিক দলের বড় ভাইদের গুড বুকে থাকার জন্যই। অমিত সাহা নামের এক আসামি তো স্বীকারোক্তিও দিয়েছে, ‘হাই কমান্ড বললে, আমরা না করি কেমনে?’ এভাবেই পেয়ে যায় এই ছেলেরা আশপাশের শহুরে সব ব্রিলিয়ান্ট ছেলেমেয়েদের ভিড়ে এক ধরনের ‘ক্ষমতার আইডেন্টিটি’। সবাই এখন এদের তোয়াক্কা করে চলে। দেখলেই সালাম দেয়। যে কাউকে যখন ইচ্ছে তারা র‌্যাগিং দেয়ার ক্ষমতা রাখে। বিশাল ব্যাপার না?
ভ্যান চালক বাবার ছেলেটার জন্য এটা নিঃসন্দেহে বিশাল ব্যাপার। বুয়েট ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করাটায় আমি কিছুটা হতাশ। হতাশ হয়েছি রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে দেখে না, বরং হতাশ ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে। তারা সুন্দরভাবে ছাত্র রাজনীতির ব্যাপারটা ক্যাপিটালাইজ করতে পারেনি। এভাবে ভেবে দেখেন বুয়েট থেকে বারো বছর আগে পাস করা আজকে যে ছেলেটা অস্ট্রেলিয়ার একটা শহরের টাউন প্ল্যানার, সে কিন্তু ছাত্রলীগের কেউ না। পৃথিবীর অনেক বড় বড় জায়গায় বুয়েটের ছেলেমেয়েরা রীতিমতো কাঁপাচ্ছে। বিশ্বের বড় বড় আইটি ফার্মগুলোতে বুয়েটের ছাত্র, ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে বুয়েটের ছাত্র, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে বুয়েটের ছাত্র। অথচ কোনো রাজনৈতিক দলই কিন্তু আজ বুক ফুলিয়ে বলতে পারছে না বড় বড় আইটি ফার্মগুলোতে বা ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে বা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে যে মাথাগুলো আছে, তারা কিন্তু আমাদের দলের রাজনীতি করা ছাত্র। পারছে না কারণ ছাত্ররাজনীতির গোড়াতেই গলদ ছিলো। আমি অবশ্যই ছাত্ররাজনীতির পক্ষের লোক। কারণ বিশ্বের যেকোনো পরিবর্তনে, ছাত্র রাজনীতি করা ছেলেমেয়েরাই সবার আগে ছিলো। সেটা জার্মানের বার্লিনের ওয়াল ভাঙ্গার ক্ষেত্রে হোক বা বাংলাদেশের ৫২তে ভাষা আন্দোলনের সময়ই হোক বা ৭১-এ পাল্টা গুলি ছোড়ার ক্ষেত্রেই হোক। আফসোস মাথামোটা কিছু নেতাদের পলিসির কারণে এই দেশ থেকে আজ ছাত্ররাজনীতি হারিয়ে যাওয়ার পথে। তবে একদিক দিয়ে ভালোই যে, এই ছাত্ররাজনীতি নামের ‘অপছাত্ররাজনীতি’ আজ হারিয়ে যাচ্ছে। এটা কখনোই পরিশুদ্ধ হতো না, যতোক্ষণ পর্যন্ত না মূলধারার রাজনীতি দুর্বৃত্তমুক্ত হতো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]