বাসা-বাড়িতে পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ, বিকল্প সিলিন্ডার

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2019

শাহীন চৌধুরী : দেশে সিলিন্ডার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজি আমদানির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। গত ৯ বছর ধরে আবাসিকে পাইপলাইনে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এলএনজি আমদানির পর পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ দেয়ার পক্ষে বিশেষ কমিটিও তাদের মতামত দেয়। গত মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযোগ বন্ধ রাখার পক্ষে তার অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ায় এখন বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবেই বন্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রাকৃতিক গ্যাস শুধু বিদ্যুৎ ও শিল্পে ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দ্রুত বাড়ছে এলপিজির ব্যবহার। গত ৯ বছরে দেশে এলপিজির ব্যবহার ৭ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাবে। তখন পাইপ লাইনে গ্যাস ব্যবহারকারী ১২ শতাংশ গ্রাহকও এলপিজি ব্যবহার করবে। এসব গ্রাহকের জন্য আরও ১০ লাখ ৪ হাজার টন এলপিজি প্রয়োজন পড়বে। আর বর্ধিত গাড়ির সিএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে এ খাতে এলপিজির প্রয়োজন পড়বে ২০ লাখ টন।
বর্তমানে পাইপলাইনে গ্যাসের ব্যবহারকারীদের ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার ৯৭৪ টন। ৯ বছরের ব্যবধানে এ চাহিদা ৭ লাখ ১৩ হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে। ২০৪১ সালে এলপিজির চাহিদা ৮০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলছে জ্বালানি বিভাগ।
ভবিষ্যতে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে গেলে আবাসিকে প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে এলপিজি। এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান খান ইউএনডিপি ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের বরাত দিয়ে এক রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালে শহরে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮.২ শতাংশে। এর আগে ২০১৩ ও ২০১২ সালে ছিল যথাক্রমে ২৭.২ ও ২৬.২ শতাংশ। অর্থাৎ শহরে জনসংখ্যা বেড়েছে ১ শতাংশ হারে। সে হিসাবে ২০৪১ সালে শহর ও গ্রামের জনসংখ্যার অনুপাত হবে সমান সমান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতিক হার বিবেচনায় শহরে পরিবারের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ৬ লাখ।
ইউএনডিপি জানায়, গ্রামে উচ্চ আয়ের লোক সংখ্যা ১০ শতাংশ আর মধ্যম আয়ের লোক সংখ্যা ৫০ শতাংশ। উচ্চ ও মধ্যম আয়ের লোকজনও এলপিজি ব্যবহার করবে। সে পরিকল্পনার ভিত্তিতে ৮০ লাখ টন চাহিদা নির্ণয় করা হয়েছে। এখানে গ্রামের ৪০ শতাংশ জনসংখ্যাকে এর আওতার বাইরে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ শের আলী বলেন, গত ১০ বছরে ব্যাপক হারে এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি হারে (৯২ শতাংশ) বেড়েছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে। আর গড় ৩৫ শতাংশ হারে বেড়েছে এলপিজি ব্যবহার। ৫৬টি কোম্পানিকে এলপিজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। আমরা মনে করছি, যে সব কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সেগুলো যদি উৎপাদনে আসে, তাহলে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আর কোনো সংকট হবে না। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]