• প্রচ্ছদ » » লেজুড়বৃত্তি ছাত্র রাজনীতি কি ভালো নেতা তৈরে করছে?


লেজুড়বৃত্তি ছাত্র রাজনীতি কি ভালো নেতা তৈরে করছে?

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2019

কামরুল হাসান মামুন : পৃথিবীর নানা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা হয়ে শিক্ষা আর গবেষণা নিয়ে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা দিনানিপাত করেন এসব নিয়ে। কি সুন্দর থাকার ব্যবস্থা, খাওয়ার ব্যবস্থা আর পড়াশোনার ব্যবস্থা। ক্যাম্পাস কতো সুন্দর মনোরম। আর কি এক লেবার বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়েছি আমাদের দিনানিপাত করতে হয় হত্যা, খুন, দুর্নীতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। জ্বলে যায়। এমনকি কলকাতাতেও এখন আলোচনা নোবেল পুরস্কার নিয়ে। তাদের প্রেসিডেন্সি কলেজের শিক্ষক অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন আর এবার তারই ছাত্র অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায় নোবেল পুরস্কার পান।
লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতির ফলে কেবল গত দশ বছরেই প্রায় ত্রিশজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। এটা তো কেবল শারীরিকভাবে হত্যার কথা বলছি। ট্যালেন্ট হত্যা বা পোটেনশিয়াল ট্যালেন্ট হত্যা, মানুষের মানবিক গুণ হত্যা ইত্যাদি যোগ করতে পারলে আমরা তা শুনে যদি সুস্থ মানুষ হয়ে থাকি তাহলে পাগল হয়ে যাওয়ার কথা। আমরা পাগল হই না, কারণ আমরা কেউই সুস্থ নই। যেমন বুয়েটের আবরার হত্যাকেই যদি একটি টেস্ট কেস হিসেবে ভাবী তাহলে কি দেখি? এটা কি কেবলই একজন মেধাবী ছাত্রের হত্যা? আবরার হত্যাটা শারীরিক হত্যা। হত্যাকারী যারা তারা কি? এরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলো। তারা প্রত্যেকেই হতে পারতো পরিবার তথা দেশের গর্ব। অথচ কেবল লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি এদের বানিয়েছে নৃশংস হত্যাকারী। আর একইসঙ্গে তাদের মেধার হত্যাও হয়েছে। তাদের মেধার হত্যাকারী কারা? তাদের বিচার কি কোনোদিন হবে? এক হত্যাকারীর বাবা বলছিলো ‘আমার ছেলের গায়ে মশা বসলেও মারতো না’। কথা যদি সত্যি হয় তাহলে আমাদের এই লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি কি ভয়াবহ তা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগেও লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির প্রভাব প্রকট। অপেক্ষাকৃত কম ভালো ফলাফল করা ছাত্রছাত্রীরাও লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি নেতা হওয়ার কারণে বিশেষ ছাড় পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সংখ্যা আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন দিন বাড়ছেই। আর এর প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত অযোগ্য শিক্ষকের সংখ্যা একটি থ্রেশহোল্ড মান অতিক্রম করছে বলেই এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানের ধস এখন চক্ষুমান। প্রতিটি সরকার তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের বেছে নিয়েছে নিজেদের ছাত্র সংগঠনের নেতা থেকে যা এই পৃথিবীতে বিরল। এই লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি কি ভালো নেতা তৈরে করছে? গুটিকয়েক ভালো রাজনৈতিক সংগঠনের কথা ভেবে কি ট্যালেন্টের এ রকম গণহত্যা মেনে নিতে হবে?
টেস্ট কেস হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখা যায়। সম্প্রতি ছাত্ররাজনীতিমুক্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে লিখছিলাম। একটি ছাত্রও আমার সঙ্গে বড় আকারের দ্বিমত করে কোনো মন্তব্য করেনি। একজনের মন্তব্য আমি হুবহু তুলে ধরছি, ‘আমি ছয় বছর সেখানে পড়াশোনা করাকালীন কোনো রক্ত তো দূরের কথা মারামারিও কোনোদিন দেখিনি। আর নিয়মের কথা যদি বলি, আমি হলে সিট পাওয়ার জন্য কোনোদিন কোনো স্যারের কাছেও যায়নি কোনো সিনিয়রের কাছেও যায়নি। শুধু একটা দরখাস্ত দিয়েছি এবং আমার ব্যাচে আমি ফার্স্ট হওয়ায় সবার আগে সিট পেয়েছিলাম। পরে আমার ক্লাসের বন্ধুরাও রেজাল্টের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সবায় সিট পায় অনেকে দেখলাম র‌্যাগিংয়ের কথা বলেছেন। হ্যাঁ একসময় র‌্যাগিং প্রকট আকারে ছিলো, কিন্তু ২০০৫ থেকে কমতে শুরু করে এবং ২০১০ থেকে নেই বললেই চলে। তবে শিক্ষক রাজনীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করা গেলে এটি হতে পারে দেশের একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়।’ তার শেষ মন্তব্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্ররাজনীতি নেই, কিন্তু শিক্ষক রাজনীতি প্রকট। এই শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে প্রথম আলো একটি রিপোর্টও করেছে তাতে স্পষ্ট হয়েছে ছাত্ররাজনীতি মুক্ত হওয়ার যতোটুকু সুফল পাওয়ার কথা তা এই শিক্ষক রাজনীতির কারণে খুবি পাচ্ছে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]