• প্রচ্ছদ » » ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’ প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু


‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’ প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

জান্নাতুল ফেরদৌস : আইয়ুব বাচ্চু একজন সংগীতজ্ঞ, গায়ক-গীতিকার এবং গিটারবাদক ছিলেন। তিনি রক ব্যান্ড এলআরবির গায়ক ও গিটারবাদক হিসেবে পুরো বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। তাকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতের ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং গিটারবাদক বলা হয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। বাচ্চু চট্টগ্রামে ১৯৭৬ সালে কলেজ জীবনে ‘আগলি বয়েজ’ নামক ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে তার সংগীত জীবনের সূচনা করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে তিনি ‘ফিলিংসে’ (বর্তমানে ‘নগর বাউল’ নামে পরিচিত) যোগদান করেন এবং ব্যান্ডটির সঙ্গে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। একই বছরে তিনি জনপ্রিয় রক ব্যান্ড সোলসের প্রধান গিটারবাদক হিসেবে যোগদান করেন। সোলসের সঙ্গে তিনি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত, সুপার সোলস (১৯৮২), কলেজের করিডোরে (১৯৮৫), মানুষ মাটির কাছাকাছি (১৯৮৭) এবং ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট (১৯৮৮) চারটি অ্যালবামে কাজ করেছিলেন। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল তিনি তার নিজের ব্যান্ড লিটল রিভার ব্যান্ড গঠন করেন, যা পরবর্তীকালে লাভ রান্স বøাইন্ড নামে বা সংক্ষেপে এলআরবি নামে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি তার মৃত্যু অবধি ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর ধরে ব্যান্ডটির সঙ্গে ছিলেন। একজন একক শিল্পী হিসেবেও তিনি সফলতা পেয়েছিলেন। তার প্রথম একক অ্যালবাম রক্ত গোলাপ, যা ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় অ্যালবাম ময়না (১৯৮৮) দিয়ে, তিনি তার একক কর্মজীবনের সফলতা অর্জন করেন এবং পরে কষ্ট (১৯৯৫) অ্যালবামটি প্রকাশ করেন, যা প্রচুর সফলতা অর্জন করে। ২০০৭ সালে তিনি দেশের প্রথম বাদ্যযন্ত্রগত অ্যালবাম সাউন্ড অফ সাইলেন্স প্রকাশ করেন। বাচ্চু এলআরবির সঙ্গে এবং একজন একক শিল্পী হিসেবে প্রচুর অ্যালবাম বিক্রয় করেছেন। বাচ্চু বাংলাদেশে একজন অন্যতম সেরা গিটারবাদের এবং অন্যতম প্রভাবশালী গীটারবাদক। দ্যা টপ টেনস তাকে বাংলাদেশের ‘শ্রেষ্ঠ দশজন গিটারবাদকে’র তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে দিয়েছেন (শুধু ওয়ারফেজের ইব্রাহীম আহমেদ কমলের পেছনে)। এলআরবির সঙ্গে সে ছয়টি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার এবং একটি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস জিতেছেন। ২০০৪ সালে বাচসাস পুরস্কার জিতেছিলেন সেরা পুরুষ ভোকাল বিভাগে। ২০১৭ সালে সে টেলে সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার জিতেছিলেন। বাচ্চু তার বান্ধবী ফেরদৌস চন্দনাকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারিতে। তাদের দুটি সন্তান আছে। মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব এবং ছেলে আহনাফ তাজওযার আইয়ুব। ছয় বছর ধরে ফুসফুসে পানি জমার অসুস্থতায় ভোগার পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে হৃদরোগে তিনি নিজবাসায় ঢাকায় মারা যান। মৃত্যুর দুদিন আগে তিনি রংপুরে তার শেষ অনুষ্ঠান করেছিলেন। তাকে চট্টগ্রামের চৈতন্য গলিতে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। মানুষটির আজ জন্মদিন। জন্মদিনে তার প্রতি ভালোবাসা। শ্রদ্ধা।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]