• প্রচ্ছদ » » কৃষিশিক্ষার উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাব্য সমাধান


কৃষিশিক্ষার উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাব্য সমাধান

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

ড. মতিয়ার রহমান

বিগত ১৯৬০ দশকে গৃহীত শস্য উৎপাদন কৌশলের আকাঙ্খিত লক্ষ্য সীমার কাছাকাছি আমরা পৌঁছে গেছি। গৃহীত কৌশলের কিছু খারাপ ফলও পেতে শুরু করেছি যেমন ভ‚-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকাতেই আর্সেনিক বিষাক্ততা দেখা দিয়েছে, সারের অসম ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা ও উৎপাদন দক্ষতা কমতে শুরু করেছে, কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে, উফশী জাতের ফসলের আবাদি এলাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় জমির উর্বরতার উপর দারুণ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ কৃষক দরকার। আমাদের দেশে শাক-সবজি, ফল-ফুল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে, এ ব্যাপারটি এখনো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। অনেক কৃষকই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণের ঝুঁকি নিতে সাহস করেন না। আবার অনেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আর্থিকভাবে এতোটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে পরবর্তীতে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছেন। এজন্য কৃষি ঋণের সরবরাহ বাড়ানো দরকার। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট কোর্সের পর ডিপ্লোমা কোর্স। ডিপ্লোমা কোর্সের পর ¯œাতক কোর্সে ভর্তির সুযোগ আছে। আমাদের দেশেও প্রকৌশল শিক্ষার ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা চালু আছে কিন্তু কৃষি শিক্ষার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমাধারীদের উচ্চশিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারার জন্য কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সকে জনপ্রিয় করা যাচ্ছে না। জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রণয়ন (১৯৯৭) কৃষি শিক্ষা উপকমিটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি শিক্ষা এবং গবেষণা সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিলো। উক্ত উপকমিটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, পশুসম্পদ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা প্রাপ্তদের ¯œাতক পর্যায়ের কোর্সে ভর্তির সুযোগ দিতে সুপারিশ করেছে এ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সের প্রায় ৫০ ভাগের বিষয়বস্তু ব্যবহারিক। তাই বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক ল্যাবরেটিরি যথা, মাঠ ফসল, উদ্যান নার্সারি, রোগ-পোকার মিউজিয়াম, মাছ-মুরগি ও গবাদিপশুর খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। বর্তমানে ইনস্টিটিউটগুলোতে এসব অবকাঠামোর স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। সুবিধাদি বাড়ানো দরকার। ১৯৬০ সালে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সৃষ্টি করা হয়। এ অধিদপ্তর সৃষ্টির লগ্ন হতে অদ্যাবধি শুধু প্রকৌশলীদের বিভিন্ন শাখা ব্যতীত অন্য কোনো শাখায় শিক্ষার উন্নয়নে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। এ অধিদপ্তররে কৃষি শিক্ষা পরিচালনার জন্য যথাযোগ্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলসমৃদ্ধ কোনো শাখা বা বিভাগ নেই। কৃষি শিক্ষার ক্ষেত্রে বৃত্তির কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি, শিক্ষার্থীদের প্রতি ছয় মাসের সেমিস্টারের অধ্যয়ন ফি বাবদ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দুই হাজার পাঁচশ টাকা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রায় চার হাজার প্রদান করতে হয়। মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজগুলোকে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টর অধিভুক্ত করে বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ কৃষির বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলো এখনো এর অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না এবং শিক্ষকদের (এমপিওভুক্ত) করা হচ্ছে না। বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলো এমপিওভুক্ত করা দরকার। যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অথচ কৃষি ডিপ্লোমা পাস শিক্ষার্থীদের আদৌ এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে এদিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। লেখক : কৃষিবিদ, সাবেক উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]