• প্রচ্ছদ » স্ক্রল » ছাত্ররা তো রাজনীতি করবেই, কিন্তু সেটা কি জোর করে মিছিলে নামিয়ে? সেটা কি টর্চার সেলে টর্চার করে?


ছাত্ররা তো রাজনীতি করবেই, কিন্তু সেটা কি জোর করে মিছিলে নামিয়ে? সেটা কি টর্চার সেলে টর্চার করে?

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

কামরুল হাসান মামুন : আমি যখন বর্তমান লেজুড়বৃত্তির ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি কতো খারাপ তা বর্ণনা করি তখন অনেকেই বলে এটা তো ছাত্ররাজনীতি নয়। আমি যখন ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলি তখন অনেকেই বলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা যারা বলে তারা রাজনীতি বোঝে না। আমার মতো যারা কম বোঝে তাদের চিন্তাগুলো আমি ধরতে পারি, কারণ তারা যে আমাকে রিপ্রেজেন্ট করেন আবার যারা আমার সঙ্গে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন তাদের আশঙ্কার জায়গাটাও আমি বুঝি, কারণ ওসব আশঙ্কা আমিও কমবেশি করি। কিন্তু ক্যামোফ্লাজ করে ধূম্রজাল তৈরি করবেন না প্লিজ। একটু সহজ-সরল হন। বর্তমানে যা চলছে সেটা যদি সত্যিকারের ছাত্ররাজনীতি না হয়ে থাকে সেটাকে বন্ধ করবো কীভাবে? মোটা দাগে ৯০-এর পর থেকে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যা চলছে সেটা হলো একদলীয় ব্যবস্থা। যেই সরকার ক্ষমতায় সেই সরকারের ছাত্র সংগঠন যেন রাজ ংগঠন। আবাসিক শিক্ষক হিসেবে যেই শিক্ষকরা নিয়োগ পাবেন তারাও মোটা দাগে একই ধারার রাজশিক্ষক। ফলে গোটা ক্যাম্পাস চলে একদলীয় ব্যবস্থায়। যদিও নিজেদের স্বার্থে খুব ছোটখাটো দলকে একটু স্পেস দেয়, কারণ এতে তারা জাস্টিফাই করতে পারে একদল কোথায় পেলেন। হলে তো আরও অনেক সংগঠন ক্রিয়াশীল। ছোটরা ততোক্ষণই ক্রিয়াশীল যতোক্ষণ সরকারি দলের কাছে থ্রেট নয়। এটাকে যদি রাজনীতি বলে এই সিস্টেমকে জারি রাখার জন্য সাফাই গাই তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।
৯০ থেকে চলে আসা এই একদলীয় ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতির কুফল হলো বুয়েটে আবরার হত্যাকা-, জাহাঙ্গীরনগরে স্বয়ং ভিসি সরকারি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের উন্নয়ন প্রকল্পের চাঁদা বাবত প্রাপ্ত টাকা ভাগ করে দেয়ার অভিযোগ ইত্যাদি। এমনকি সম্প্রতি সংবাদপত্রে পড়লাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনের পূর্বে সরকারি দলের সংগঠনের নেতাকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুবিধা করে দিতে গিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে এমফিল কোর্সে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি না থাকলে কি এগুলো হতো? এছাড়া আরও দেখা গেছে সরকারি ছাত্র সংগঠন কিংবা সরকারি দলের শিক্ষকরা যদি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর অভিযোগ আসে অথবা যৌন হয়রানির অভিযোগ আসে তার বিচার প্রায় হয় না বললেই চলে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা আমরা শুনেছি। ওখানে সরকারি দলের ভিসি, শিক্ষক আর ছাত্ররা কি করেছে। এ রকম অভিযোগ কমবেশি বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই পাওয়া যাবে। এই যে এসব অনৈতিকতার চাষ আমরা সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে করছি তারই প্রতিফলন আমাদের সমাজে ঘটছে। তাই বর্তমানে যেভাবে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি চলছে সেটা চলতে দেয়া যায় না। এ সহজ সত্য কথাটি বুঝতে কি রকেট বিজ্ঞানী হওয়া লাগে? ঋণাত্বক থেকে ধনাত্বকে যেতে শূন্য পার হয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ সাময়িকভাবে হলেও এই অসুস্থ ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করে দেখতে হবে আমরা ভালোর দিকে যাচ্ছি কিনা।
ছাত্ররা তো রাজনীতি করবেই। কিন্তু সেটা কি জোর করে মিছিলে নামিয়ে? সেটা কি টর্চার সেলে টর্চার করে? সবাই যদি সমান সুযোগ পেতো, সবাই তার নিজেদের মতো নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারতো তাহলে আমার চেয়ে খুশি পৃথিবীতে কেউ হতো কিনা সন্দেহ। আমি তো এ রকম পরিবেশই চাই। এখন যা দেখি স্বয়ং শিক্ষকরাই নিজের স্বাধীনমত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে ভয় পায় পাছে প্রমোশন পেতে অসুবিধা হয়, পাছে আবাসিক শিক্ষক বা প্রভোস্ট অসুবিধা হয় তাহলে বুঝুন গ্রাম থেকে আসা দরিদ্র ঘরের ছাত্ররা যারা হলে থাকে তাদের অবস্থা। আমাদের এই অচলায়তন ভাঙতেই হবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]