ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের ১০ কাউন্সিলর পদ হারাতে পারেন

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

 

সুজিৎ নন্দী : ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বোর্ড সভায় একনাগাড়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা, অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার কারণে ওই ১০ জন কাউন্সিলর পদ হারাতে পারেন। পাশাপাশি করপোরেশনের বিভিন্ন কাজে তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের অনেকেই নিজ নিজ ওয়ার্ডের নাগরিকদের সমস্যায় এগিয়ে আসেন না। একই সঙ্গে বিশেষ সভায় তারা অনুপস্থিত থাকেন। ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে আসার পরে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ডিএসসিসিতে মোট ১৯টি সভা অনুষ্ঠিত হলেও উল্লিখিত কাউন্সিলররা তাতে একাধারে তিন থেকে আটটি পর্যন্ত বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থেকেছেন। কেউ কেউ ১৪-১৫টি সভায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই-একজন দুই-একবার ছাড়া বাকিরা অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কেউ পূর্বানুমতিও নেননি। এরই মধ্যে একাধারে করপোরেশন সভায় অনুপস্থিত কাউন্সিলরদের একটি তালিকা করেছে ডিএসসিসি। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই তালিকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। আইন অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তাকে বরখাস্ত করা যাবে।
স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন আইনে বলা হয়েছে, মেয়র অথবা কাউন্সিলর তার স্বীয় পদ হতে অপসারণযোগ্য হবেন, যদি তিনি যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে সিটি করপোরেশনের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন। দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত ৯ জন কাউন্সিলর একাধারে তিনটি থেকে শুরু করে আটটি সভা পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এখনও তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি জনপ্রতিনিধিদের ব্যাপার। মেয়র মহোদয় উদ্যোগ নিয়ে এটি করতে পারেন। আমরা প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আমরা এটি নিতে পারি না।
একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পুরনো ৫৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রায় ১০ জন নিয়মিত বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকেন। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, এদের বেশিরভাগই নগরীতে অবৈধ ক্যাসিনো, জুয়ার আসর ও ফুটপাতের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। রাতভর তারা এসব অপকর্ম করেন, আর দিনের বেলা ঘুমিয়ে কাটান।
তারা জনপ্রতিনিধি হলেও নিজেরা নিয়ম মেনে চলেন না। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরের কাউন্সিলর সদ্য গ্রেপ্তার হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে (পাগলা মিজান), ডিএসসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুজ্জামান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একেএম মমিনুল হক সাঈদ, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তফা জামান (পপি), ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম সজীব, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর বিল্লাল শাহ, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু ও সংরক্ষিত আসনে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন (মণি) অন্যতম। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ, ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]