• প্রচ্ছদ » সাবলিড » দারিদ্র স্থায়ীভাবে কমাতে হলে আগে বৈষম্য দূর করতে হবে, বললেন পরিকল্পনামন্ত্রী


দারিদ্র স্থায়ীভাবে কমাতে হলে আগে বৈষম্য দূর করতে হবে, বললেন পরিকল্পনামন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

 

সাইদ রিপন : পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে দারিদ্রের হার কমলেও বৈষম্য বাড়ছে। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উন্নয়ন অন্বেষণ প্রতিষ্ঠান অক্সফাম কর্তৃক আয়োজিত ‘যেখানে বাংলাদেশে বৈষম্য’ এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে দারিদ্র কমানো একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এই দারিদ্র স্থায়ীভাবে কমাতে হলে আগে বৈষম্য দূর করতে হবে। যে গরীব সে আরো গরীব হচ্ছে, আর যার অবস্থা ভালো সে আরো উন্নত ও অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার দারিদ্র সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছে। সরকার সোশ্যাল সেফটিনেট (সামাজিক নিরাপত্তাবলয়) বাড়ানোর জন্যও কাজ করছে। যা বেড়েছে, তা যথেষ্ট নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দিয়েই সব কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন আইনেরও সংস্কার হচ্ছে। কিন্তু দুটি বিষয়ে অনিয়ম দর্শনে পরিণত হয়েছে। প্রথমত, আমলাতন্ত্র, দ্বিতীয়ত, ভূমিগত সমস্যা। এগুলো দিনে দিনে এতটাই বেড়েছে যে, ঠেকিয়ে রাখা কঠিন।
সংলাপে উপস্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মীর্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে বৈষম্য বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়ের বৈষম্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারা ঋণ খেলাপি হচ্ছেন তারাই লাভবান হচ্ছেন। ঋণ খেলাপি হলে তারা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদ দিচ্ছেন। আর যারা নিয়মিত দেন তাদেরকে দিতে হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। ঋণ খেলাপীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হলে দেশে আয়ের এ বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষার মানের অস্বাভাবিক অবনতি হয়েছে। অনেকে বিএ, এমএ করেও চাকরি পাচ্ছে না। তারা লেখাপড়া করছে কিন্তু তাদের মধ্যে যোগ্যতার অনেক ঘাটতি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আরেক অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর সালেহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, দারিদ্র বিমোচনের বিষয়টি অনেকাংশেই রাজনৈতিক বিষয়। রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি চাইলে এ বৈষম্য মেটানো সহজ। দারিদ্র বিমোচন না হলে ‘সাসটেনেবেল ডেভলপমেন্ট’ (টেকসই উন্নয়ন) হবে না। বাংলাদেশ এখন উন্নতির দিকে যাচ্ছে। খেয়াল রাখতে হবে, এ ধারা যেন নিচের দিকে না নামে। অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, দেশে কর আয়ের ৭০ শতাংশ আসে পরোক্ষ আয় থেকে। কিন্তু ৫০ শতাংশেরও বেশি কর আয় প্রত্যক্ষ আয় থেকে আসা উচিৎ। ঘুষ, দুর্নীতি, কাজ না করে আয়, কৃষকদের মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হলে বাংলাদেশে জিডিপির হার ১০ শতাংশ হতে পারতো।
অক্সফামের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ ড. খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, সিপিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তাবৃন্দ। সেমিনারে কি নোট প্রেজেন্টেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]