• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ ব্যানার্জি বললেন, এক দেশে দুর্নীতি থাকলেই পরিবর্তন আটকে থাকে না


নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ ব্যানার্জি বললেন, এক দেশে দুর্নীতি থাকলেই পরিবর্তন আটকে থাকে না

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

ইকবাল খান : সদ্য নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাঙালি অভিজিৎ ব্যানার্জি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, কোন একটি বিষয় দারিদ্র বিমোচন আটকে রাখে না। দারিদ্র বিমোচন অনেক সময় লাগবে উল্লেখ করে অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, এর সাথে অনেক বিষয় জড়িত। বিবিসি।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, দুর্নীতি থাকলেই সবকিছু অকেজো হয়ে যাবে তা নয়। মানে দুর্নীতির ভেতরেও অনেক কিছু হয়, পরিবর্তন হয়। যে দেশে দুর্নীতি আছে সে দেশে পরিবর্তন আটকে থাকেনা। তিনি বলেন, লোকেরা যারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকে, তাদেরও ভোট জেতার আশা থাকে।
ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর উদাহরণ টেনে অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, তিনি ‘বিখ্যাত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট’ ছিলেন বলে নানা লোকে বলে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় সবার জন্য স্কুল এবং অপুষ্টি দূর করার উপর জোর দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিজিৎ ব্যানার্জির সাথে আরো যে দুজন নোবেল পুরস্কার জিতেছেন তাদের একজন হলেন তার ফরাসি স্ত্রী এসথার ডুফলো এবং আরেকজন হলেন মাইকেল ক্রেমার। পুরস্কার পাওয়ার পরে এসথার ডুফলো বলেন, গত ৩০ বছরে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে দুটো গ্রুপ খুবই লাভবান হয়েছেন। একটি অংশ হচ্ছে অতি ধনী এবং অপর অংশটি হচ্ছে অতি দরিদ্র।
অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, হ্যাঁ, তারা মার খেয়েছে। যেমন মার্কিন দেশে, যেখানে আমরা থাকি, সেখানে মধ্যবিত্তরা মার খেয়েছে। এবং দরিদ্ররাও মার খেয়েছে। মার্কিন দেশে যারা দরিদ্র, তারাও পৃথিবীতে মধ্যবিত্ত। তারাও মার খেয়েছে। যারা মার খায়নি তারা হচ্ছে পৃথিবীর দরিদ্র দেশের দরিদ্র লোকেরা – ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং চীন – এসব দেশের দরিদ্রদের উন্নতি হয়েছে।
পৃথিবীর নতুন ধন-সম্পদ সব ধনীদের কাছে যাচ্ছে, এ কথা উল্লেখ করে অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, সেখান থেকে দুই-চার ফোঁটা যেগুলো ছিটকে যাচ্ছে সেগুলোও যদি গরীবরা পায় তাতেই তারা এগিয়েছে। কারণ তারা এতোটাই দরিদ্র যে সে দুই-চার ফোঁটাও তাদের কাজে লাগছে। দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্র্যাকের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে দারিদ্র্য একটি সমস্যা নয়, এটা বহুমাত্রিক সমস্যা। কিছু প্রকল্প আছে যার মাধ্যমে অতি দরিদ্রদের জন্য কাজ করা যায়। অন্য আরেকটি অংশ আছে যারা তাদের চেয়ে কম দরিদ্র। ব্র্যাক অনেক আলাদা ধরনের প্রোগ্রাম করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য-শিক্ষাও রয়েছে।

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পরে অভিজিৎ ব্যানার্জিকে নিয়ে ভারতে বেশ বিতর্ক হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তিনি কংসে নেতা রাহুল গান্ধীর উপদেষ্টা ছিলেন। ক্ষমতাসীন বিজেপির অনেক নেতা অভিজিৎ ব্যানার্জিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, তিনি এই বিতর্কে জড়াতে চাননা। তাছাড়া তিনি কখনো রাহুল গান্ধীর উপদেষ্টা ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন অভিজিৎ ব্যানার্জি।
অভিজিৎ ব্যানার্জির চিন্তা হচ্ছে, দরিদ্রদের উন্নয়নের জন্য অর্থ যাতে ঠিক মতো খরচ করা হয় সেদিকে তাদের দৃষ্টি বেশি। কোন রাজনৈতিক দল সেটি করছে তা মুখ্য বিষয় নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর আপনার জীবনে কী বদলেছে প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, আপাতত প্রতি ঘণ্টায়-ঘণ্টায় এখন মিটিং, ফোন কল, ইন্টারভিউ চলছে। আশা করি কিছুদিন পর এটা থিতিয়ে যাবে এবং আমার জীবনটা যা ছিল সেখানে পুরোদস্তুর ফিরে যাবে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলে আবার অনেকে ভুলও বলে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]