• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » ফার্মগেট-কাওরানবাজারে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী ভয়ে পুলিশে অভিযোগ করে না কেউ


ফার্মগেট-কাওরানবাজারে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী ভয়ে পুলিশে অভিযোগ করে না কেউ

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

 

সুজন কৈরী : রাজধানীর ফার্মগেট ও কাওরানবাজারে যুবলীগ নেতা সাব্বির আলম লিটুর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসী বলয়। এক সময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম ও পিচ্চি হান্নানের সহযোগীরা লিটুর আশ্রয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ত্রাসের রাজত্ব। দখল-দারিত্ব, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে তারা। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
জানা গেছে, এক সময় ফার্মগেট ও কাওরানবাজার এলাকায় অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম ও পিচ্চি হান্নান। র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত হয় পিচ্চি হান্নান। অন্যদিকে সুইডেন আসলাম বর্তমানে কারাগারে আছে। পিচ্চি হান্নান নিহত ও সুইডেন আসলাম গ্রেপ্তারের পর তাদের সহযোগীদের নিয়ে সন্ত্রাসী বলয় গড়ে তোলেন যুবলীগ নেতা সাব্বির আলম লিটু ও পিচ্চি হান্নানের বন্ধু আনোয়ার পাশা লিটন।
২০০৯ সালের জুলাই মাসে ফার্মগেট ফুলঝুরি রেস্তরাঁয় চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে আনোয়ার পাশা লিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা লিটুকেও খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে মিরপুরের কাজীপাড়া কাজী কমিউনিটি সেন্টারে একটি বউভাত অনুষ্ঠানে লিটুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তখন লিটু নিজেকে আড়াল করতে চিকিৎসার নামে বিদেশ চলে যান। ৩ বছর বিদেশে আত্মগোপনে থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ২০১২ সালে যুবলীগ উত্তরের সম্মেলনে লিটু সহ-সভাপতির পদ পেয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
জানা গেছে, এছাড়া লিটুর চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে নিউমার্কেট-আজিমপুরগামী টেম্পু থেকে প্রতিদিন চাঁদা তুলেন রানা ও কাইয়ুম। তারা প্রতি টেম্পু থেকে ৪শ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। আনন্দ সিনেমা হল থেকে আরএস টাওয়ার পর্যন্ত ফুটপাথ থেকে চাঁদা তোলেন স্বপন। আরএস টাওয়ার থেকে পান্থপথ পর্যন্ত চাঁদা তোলার দায়িত্বে ইমরুল। এছাড়া জসিম পাটোয়ারী ওরফে কানা জসিম ওরফে নাডা জসিম ও বাবা সোহেলসহ তাদের সহযোগীরা কাওরানবাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন খানের কাছে মাসিক ৩০ হাজার টাকা এবং এককালীন ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এছাড়া কাওরানবাজারের আলু মার্কেটের দোতলায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীরের কাছে মাসিক ২০ হাজার এবং এককালীন ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীরকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে হাইওয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে।
সূত্র জানায়, কাওরান বাজার (কিচেন মার্কেট, বাপেক্স, পরিবার পরিকল্পনা ভবন, কাব্যকস মার্কেট, পেট্টোবাংলা) এর সামনে পিকআপ স্ট্যান্ড থেকে পিকআপ প্রতি এক হাজার টাকা করে ৩৫০টি পিকআপ থেকে প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে মাসুদ। বাপেক্স ভবনের সরকারি মাইক্রোবাস থেকে প্রতি মাসে পার্কিংয়ের নামে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা তোলে মতিন মৃধার সহযোগী এমদাদ ও জীবন। প্রগতি টাওয়ারের কার পার্কিং থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি সাব্বির আলম লিটু ফোনে জানান, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সঙ্গে কোনো চাঁদাবাজের সম্পর্ক নেই। বিভিন্ন মালিক সমিতির নামে টেম্পু ও লেগুনা থেকে চাঁদা তোলা হয়। তবে কাইয়ুম, তাজুল ইসলাম, স্বপন, ইমরুল, আক্তার হুসেন ওরফে পাতা আক্তারসহ সবাই তার পরিচিত বলে জানান তিনি।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি আনিসুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা: শাহিদ আবেদীন মিন্টু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]