বছরে ১০ লাখ মামলা হলেও সড়কে নিরাপত্তা ফেরে না

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

 


আসিফ কাজল : প্রতিদিন ঢাকা শহরে যানবহনে ৩ হাজারের অধিক মামলা হয়। মাসে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ। এ বছর অক্টোবর মাস পর্যন্ত ১০ লাখ মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। বেশিরভাগ মামলা হয়েছে মোটরসাইকেলে এর পরেই আছে গণপরিবহণ। ডিএমপি ট্রাফিক পুলিশ সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ডিএমপির অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ কমিশনার মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, মামলার সংখ্যা বাড়লেও যানবহন বেশি থাকায় সড়কে শৃংখলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহন মালিকরা অভিযোগ করেন, ট্রাফিক পুলিশ সড়কে শৃংখলা ফেরাতে কাজ করছে না বরং সরকারি রাজস্ব উত্তোলনের কাজ করছেন তারা।
মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত একবার যাত্রী পরিবহন করাকে ”টিপ” বলে পরিবহণ শ্রমিকরা। তারা বলেন, একটিপ মারলেই বাস মালিকরা ৪০০ টাকা দেন। আবার অনেক চালক প্রতিদিন ২০০০ টাকা চুক্তিতে মালিকদের থেকে বাস ভাড়া নেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বাসাবো, তেজগাঁও, ফার্মগেট এলাকার পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। একটি গণপরিবহন সহকারি মো. রাসেল বলেন, সকাল ৬টায় টিপ শুরু হলেও বাসস্ট্রান্ডে ভোর ৪টা থেকে সিরিয়াল দিতে হয়। আবার রাত ১২টায় টিপ শেষ করে রাত ১টায় ঘুমাতে হয়। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘুমের স্বল্পতার কারণে শ্রমিকরা নিস্তেজ হয়ে পড়েন। মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে ফিট রাখতে মাদক সেবন করেন তারা। বাস চালক হূমায়ুন ফিরোজ বলেন, সড়কে বের হলেই ট্রাফিক পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়। মামলা থাকার পরও আবারো মামলা খেতে হয়। যেকারণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চালকদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। এছাড়াও যাত্রী থেকে পুলিশের খারাপ ব্যবহার ও গালিগালাজ তো রয়েছে। ক্ষতি পোষাতে বেপরোয়া গাড়ি চালান পরিবহন চালকরা।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রণ্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, চুক্তিভিত্তিক গাড়ী চালানো, চালক ও পরিবহণ শ্রমিকদের কোনো কর্মঘণ্টা না থাকা এবং প্রশিক্ষণের অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়াও পরিবহন শ্রমিকদের কোনো বেতন-ভাতা পেনশন দেয়া এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েতউল্লাহ বলেন, উন্নত দেশের মতো আমরাও ঢাকা শহরে ফ্রঞ্জাইজি প্রক্রিয়ায় যান চলাচলের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে গুলশানে ”ঢাকার চাকা” চলছে। বিআরটিএর ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধুমাত্র শাস্তি প্রয়োগ করে সড়কে নিরাপত্তা দেয়া যাবেনা। তাদের মতে শাস্তির তীব্রতা যত বাড়ছে, আইন ভাঙ্গার প্রবণতাও ততো বাড়ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর হিসেব মতে, ২০১৮ সালে ৯৮৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০৭ জন হতাহত হয়েছেন। জনসচেতনতা, যান চালকদের বিশ্রামের অভাব ও সড়কে বিশৃংখলাকে দায়ি করেন তারা। বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক শাহনেওয়াজ রাব্বি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে জন সচেতনতা ও আইন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। সম্পাদনা : ওমর ফারুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]