যুবলীগের সম্মেলনে মূল আলোচনায় বয়সসীমা

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

 

বাশার নূরু : আওয়ামী যুবলীগের আসন্ন জাতীয় কংগ্রেসকে ঘিরে নেতৃত্বে বয়সসীমার বিষয়টি প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে বয়সের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বুড়োদের কাছ থেকে মুক্ত করে যুবকদের হাতেই নেতৃত্ব দেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।
১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পর ছয়টি জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ ফজলুল হক মণি। ওই সময় যুবলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪০ বছরের একটি বয়সসীমার বিধান ছিল। ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির দ্বিতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ওই বিধানটি বাতিল করা হয়। ৩৮ বছর বয়সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আমির হোসেন আমু। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে ৩৭ বছর বয়সে মোস্তফা মহসীন মন্টু, ১৯৯৬ সালে চতুর্থ কংগ্রেসে ৪৭ বছর বয়সে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ২০০৩ সালে ৪৯ বছর বয়সে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে ৬৪ বছর বয়সে মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে বুড়োরাই যুবলীগের নেতৃত্বে এসেছেন।
ইতিপূর্বে প্রতিটি কংগ্রেসেই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভেতর থেকেই সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার ব্যতিক্রম হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কারণ হিসেবে সংগঠনের নেতারা বলছেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বেশির ভাগই ষাটোর্ধ্ব। যুবলীগের মোট প্রেসিডিয়ামের পদ ২৭। পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় মোট ২৯ জন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। ২৮ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে মাত্র পাঁচজনের বয়স ৬০ বছরের নিচে। বাকি ২৩ জনের বয়সই ষাটের বেশি। পাঁচজন যুগ্ম সম্পাদকের প্রত্যেকের বয়সই ৫৫ বছরের অধিক। নয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে শুধু একজনের বয়স ৫০-এর কম। বাকি আটজনের বয়সই পঞ্চাশোর্ধ্ব। সম্পাদকম-লীর ৬০ জনের মধ্যে ৪৫ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব। সহসম্পাদক ২০ জনের মধ্যে ১৫ জনেরই বয়স ৫০-এর বেশি। সদস্য ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জন ৫০ পার করেছেন। সূত্রমতে, দীর্ঘদিন যুবলীগসহ আরও চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন না হওয়ায় ইমেজ সম্পন্ন অনেক সাবেক ছাত্রনেতাকে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এসব সাবেক ছাত্রনেতাদের রয়েছে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি। দেশব্যাপী পরিচিত, ক্লিন ইমেজ ও দক্ষ সংগঠকদের এবার কাজে লাগাতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুবলীগ ছাড়াও অন্য তিন সহযোগী সংগঠনে কাকে কোথায় কাজে লাগাবেন সে তালিকা তিনি ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন। তাদের ব্যাপারে আরও বেশি খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি। গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, এবার চার সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব বেছে নিতে দলের অন্য কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই খোঁজখবর নিচ্ছেন। ছাত্রলীগের বিগত (শোভন-রাব্বানী) কমিটিতে নেতা নির্বাচনে কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বাছাই করা ‘সেরাদের’ নেতৃত্ব দেওয়া হলেও আস্থা ধরে রাখতে পারেননি তারা। সে কারণে এবার অনেক যাচাই-বাছাই করেই নেতৃত্ব দিতে চান শেখ হাসিনা। সম্পাদনা : কাজী নুসরাত
বয়সসীমা নিয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, নির্দেশনা পেলে গঠনতন্ত্র উপকমিটি আছে, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যুবলীগের কংগ্রেসে বয়স নিয়ে নতুন করে ভাবছেন শেখ হাসিনা। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী আগামীর নেতৃত্ব আসবে। যুবলীগের ইমেজ ফেরাতে পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ সংগঠককেই বসানো হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]