• প্রচ্ছদ » » সব কিছুতেই শেখ হাসিনার দোষ ধরা একটি ছোঁয়াচে রোগের লক্ষণ


সব কিছুতেই শেখ হাসিনার দোষ ধরা একটি ছোঁয়াচে রোগের লক্ষণ

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

লীনা পারভীন

জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হলে আগে শুরু করতে হয় ঘর থেকেই আর তিনি সেটিই শুরু করেছেন। অথচ আমরা দিনের পর দিন সে কাজটির প্রশংসা না করি অন্তত দর্শকের ভ‚মিকাতেও নামতে নারাজ। ‘অধৈর্য হলে সমাধান আসবে না বা হতাশাও সমাধান আনে না। যিনি শুরু করেছেন তার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে নিজের জায়গাটুকুকে পরিষ্কারের শপথটাই পারে আমাদের সমাধান দিতে।’ যারা আজকে কেন একে ধরা হচ্ছে না, তাকে ধরা হচ্ছে না বা এসব কেবলি ‘আই-ওয়াশ’ বলে গলা ফাটাচ্ছেন তারা এতোদিন কোথায় ছিলেন? ৭৫-এর পর থেকে যদি হিসেব করি তাহলে এর আগে আরও অনেকগুলো সরকার এসেছে-গিয়েছে। তখন কেন তারা তাদের ধৈর্যের চ্যুতি ঘটাননি? কেন তারা রাস্তায় নামেননি দুর্নীতি মানি না বলে? অথচ আজকে যখন কেউ একজন সে দায় মেটানোর শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং এই লড়াইয়ে তিনি সম্পূর্ণ একক সেনাপতি সেটাও আমরা জানি, তখন সমালোচনার ঝড়ে একেকজনের মুখে ফেনা উঠে যাচ্ছে। কেন? আটচল্লিশ বছরের জঞ্জাল আপনি দশদিনেই কেন সমাধান চান? যেখানে আমাদের দেশে দুর্নীতিরোধে আন্তরিক মানুষের অভাব, সেখানে যিনি দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন তাকে বরং সব রকম সহযোগিতা করাই কি নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নয়? যে যেই দায়িত্বে আছি আমরা যদি সেখান থেকেই নিজের চাওয়াটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তবেই তো এই প্রচেষ্টার গতি দ্রæত হতে পারে। অন্যথা একসঙ্গে সব জায়গায় হাত দিয়ে লেজেগোবরে হওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছু হবে কি? যারা বলছেন এসব হচ্ছে আই-ওয়াশ তারাই বা কেন বলছেন এসব? আমাদের মধ্যে কি নেতিবাচক দৃষ্টির লোকের সংখ্যা বেশি না সব কিছুতেই শেখ হাসিনার দোষ ধরা একটি ছোঁয়াচে রোগের লক্ষণ? বাস্তবে যারাই এই অভিযানে সন্দেহ প্রকাশ করছেন তাদের কেউই কিন্তু বিকল্প কোনো রাস্তার কথা বলছেন না। অর্থাৎ সমস্যার সমাধান চাইছেন, কিন্তু যিনি সমাধান করার উদ্যোগ নিয়েছেন তার উপর আস্থা রাখতে চাইছেন না আবার নিজেরাও পথ বাতলে দিচ্ছেন না। আজকে রিকশাওয়ালা থেকে হেলিকপ্টারওয়ালা সবাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। একজন রিকশাওয়ালাও বিদেশি কাউকে পেলে ভাড়া নিয়ে ঠকাতে ছাড়ছেন না। এটা চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গেছে। এর থেকে পরিত্রাণ একদিনে হবে না। দুর্নীতি কেবল টাকা মেরে দিলেই হয় না। এটা যখন সংস্কৃতিতে রূপ নেয় তখন এক জায়গা থেকে শুরু করা লাগে। দু’একটা রুই-কাতলার শাস্তি হলে ভয়ের জায়গাটা শুরু হবে। কিছু দুর্নীতি প্রাকৃতিক নিয়মে নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায় যখন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায়। তাই এই মুহূর্তে দরকার আইনের শাসন ও দুর্নীতিবিরোধী একটা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের যেখানে কেউই কোনো প্রকার দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না বলে প্রতিজ্ঞা করবে। অধৈর্য হলে সমাধান আসবে না বা হতাশাও সমাধান আনে না। যিনি শুরু করেছেন তার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে নিজের জায়গাটুকুকে পরিষ্কারের শপথটাই পারে আমাদের সমাধান দিতে। সংক্ষিপ্ত। সূত্র : জাগো নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]