সিসি ক্যামেরায় ঘেরা এসি নৌকায় বসবাস যুবলীগ নেতার

আমাদের নতুন সময় : 18/10/2019

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় এক যুবলীগ নেতা আছেন যিনি দাবিয়ে বেড়ান ডাঙ্গায়, আর থাকেন জলে। বাড়িঘর থাকলেও বসবাস করেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) নৌকায়। ওই নৌকায় আবার সিসি ক্যামেরাও লাগানো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। এলাকায় তার একটা বাহিনীও রয়েছে। বাহিনীতে বিভিন্ন জেলার শতাধিক সদস্য রয়েছে। আলোচিত এই যুবলীগ নেতার নাম লুৎফর রহমান। তবে এ নামে তিনি এলাকায় তেমন একটা পরিচিত নন। তাকে স্থানীয়রা জানে ‘পাগলা ডাকাত’ নামে। এই নাম বললে এলাকার শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই তাকে চেনে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর চরচালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বপাড়ের বহুলাডাঙ্গা গ্রামের মুছা শেখ ওরফে দালাল মুছার ছেলে এই লুৎফর রহমান। তার ইউনিয়নের পাশের ইউনিয়ন জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর এবং আরেক পাশে গাইবান্ধার সাঘাটার জুমারবাড়ী এলাকা। তিন জেলার সীমান্ত এলাকার মধ্যে পড়েছে বহুলাডাঙ্গা গ্রাম। তাই তার রাজত্ব ও কর্মকা- তিন জেলার ওই এলাকাগুলোতেই। পাগলা ডাকাত ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। তিনি এখন চরের রাজা। তার অপরাধগুলোও ওপেন সিক্রেট।পাগলা ডাকাত জমিনে থাকেন না। থাকেন নদীর ওপর ভাসমান নৌকায়। তাও যেমন-তেমন নৌকা নয়; থাই গ্লাস লাগানো এয়ারকন্ডিশন্ড (এসি) নৌকা। বিলাসবহুল ওই নৌকায় টিভি-ফ্রিজ তো আছেই; সৌরবিদ্যুতেও চলে এসব। আছে সিসি ক্যামেরাও। তিনি যে নৌকায় বসবাস করেন সেটির দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট। পাগলা ডাকাতের বয়স আনুমানিক ৪৫। চরবাসীর কাছে তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক। একসময় নিজে চুরি-ডাকাতি করতেন। এখন সর্দার হয়ে গড়ে তুলেছেন পাগলা বাহিনী। বাহিনীতে আছে শতাধিক ডাকাত সদস্য। এসব অপরাধ করেই কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকার মালিক তিনি। লুৎফরের বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দি থানায় ৬টি, সোনাতলা থানায় ৩টি, জামালপুরের ইসলামপুর থানায় ৩টি ও গাইবান্ধার সাঘাটা থানায় ২টি এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানায় ২টি মামলার খবর পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে ৫টি মামলার। স্থানীয় চালুয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, পাগলা ডাকাতের অপরাধের কথা সবাই জানে কিন্তু কেউ মুখ খোলে না। ওই এলাকার কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাগলা ডাকাতের অত্যাচারে আমরা এলাকায় টিকতে পারছি না। জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশিস পোদ্দার লিটন বলেন, লুৎফরের (পাগলা ডাকাত) অপরাধ জগত সম্পর্কে আমার জানা ছিল না, আমি সম্প্রতি জানতে পেরে লুৎফর রহমানকে বহিষ্কার করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে সারিয়াকান্দি যুবলীগ নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে লুৎফর রহমান ওরফে পাগলা বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আমি এবার নির্বাচনে দাঁড়াব, প্রতিপক্ষ আমাকে নির্বাচনে পরাজিত করতে ও দলীয় মনোনয়ন যাতে না পাই, সে জন্য নানা অপবাদ ছড়াচ্ছে। লুৎফর রহমান পাগলা ডাকাতের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো স্বীকার করে সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল আমিন বলেন, তার বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দি থানায় তিন-চারটি মামলা রয়েছে। তবে মামলাগুলো বহু আগের। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও আছে। কিন্তু সে নৌকায় থাকে। তাকে ধরা যাচ্ছে না। পুলিশ একদিক থেকে অভিযান চালালে পালিয়ে অন্যদিকে চলে যায়। তিন জেলার মোহনায় নদীতেই তার বসবাস। তাকে গ্রেফতারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানও নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। সম্পাদনা : ওমর ফারুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]