• প্রচ্ছদ » লিড ১ » শিশু নির্যাতন ও হত্যাকারীদের ক্ষমা নেই, বললেন প্রধানমন্ত্রী


শিশু নির্যাতন ও হত্যাকারীদের ক্ষমা নেই, বললেন প্রধানমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 19/10/2019

সমীরণ রায় : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। আর প্রত্যেকটা শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়। সেটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। কাজেই আজকে যারা এ ধরনের শিশু নির্যাতন ও হত্যা করবে তাদেরকে কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা অবশ্যই পেতে হবে। শিশু হত্যা ও নির্যাতন অন্যায় ও অবিচার। কখনই এটি বরদাশত করা হবে না।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী করা হয়। বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা যেন ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজ না করে, সে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝরে পড়া শিশুদেরও শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যারা এতিম, যাদের সমাজে কেউ দেখার কেউ নেই, তাদের জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়াকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী আশ্চর্য ব্যাপার বাবা হয়ে সন্তানকে হত্যা করে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য। শিশুদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে। বাবা হয়ে সন্তানকে হত্যা করছে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য। কী এক মানসিকতা! এ ধরনের হীন মানসিকতা সমাজে বেড়ে চলেছে। এই অন্যায়-অবিচার কখনই বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, যারা প্রতিবন্ধী বা যারা অটিজমে ভুগছে, এ শিশুদের তো কোনো দোষ নেই। আমি আজকে শিশুদের উদ্দেশে বলব, তোমরা যারা ছোট এখনো, তোমাদের আশেপাশে যখন দেখবে কেউ প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক অথবা দরিদ্র তাদের কখনো অবহেলা করো না। তাদের আপন করে নিও, তাদের পাশে থেকো। তাদেরকে সহযোগিতা করো। কারণ তারাও তো তোমাদের মতোই একজন। আমরা ছোটবেলা থেকেই পড়েছি, কানাকে কানা বলিও না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না। আসলে এ সব বলা নিষ্ঠুরতা। এটি বলা অমানবিকতা। আমাদের শিশুরা নিশ্চয়ই তা করবে না। শিশুদের মনন প্রতিভা ও মেধা বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮৯ সালে আমরা শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ গড়ে তুলেছিলাম। সেই প্রতিষ্ঠানটি আজকে অনেক বড় হয়েছে এবং এই প্রতিষ্ঠানের অনেক ছেলে-মেয়ে আজকে কত বড় হয়ে গেছে। তারা অনেকেই জীবনের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আজকে শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতো। মাঝে মাঝে মনে হয় ৫৪ বছর বয়সে দেখতে কেমন হতো? বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত চোখে থেমে যান প্রধানমন্ত্রী। রাসেলের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। তখন আব্বা খুব ব্যস্ত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ফাতেমা জিন্নাহ প্রার্থী। তিনি সেই নির্বাচনে প্রচারের কাজে চট্টগ্রামে ছিলেন। অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। রাসেলের জন্ম হওয়ার পর আমরা তাকে খবর দেই। জাতির জনক ৬৭ সালে যখন কারাগারে গেলেন রাসেলের বয়স তখন ২ বছরও হয়নি। তখনই সে বাবার স্নেহ বঞ্চিত হলো। যে দিন আমরা জেলখানায় দেখা করতে যেতাম সেদিন সে খুব অস্থির থাকতো। ঘুমাতে চাইতো না, খেতেও চাইতো না। অনেক সময় মধ্য রাতে উঠে বসে থাকতো, আমাদের সবাইকে ডাকতো। সে তার মনের ব্যথাটা জানাতে পারছে না। কিন্তু তার বেদনাটা আমরা বুঝতে পারতাম। সে জেলখানায় গিয়ে একবার বাবার দিকে তাকায়, আরেকবার মায়ের দিকে তাকায়। একটা ছোট্ট শিশু পিতার স্নেহ বঞ্চিত। রাসেল খুব চাপা স্বভাবের ছিল, সহসাই কাউকে কিছু বলতো না। তার চোখে সব সময় পানি। যদি কখনো বলতাম তোমার চোখে পানি কেন? বলতো চোখে কী যেন পড়েছে। ওই টুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কীভাবে লুকিয়ে রাখতো আমার ভাবতেও অবাক লাগে। আমি তার বড় বোন আমি কোলে পিঠে করেই তাকে আসলে মানুষ করেছি সবসময়। আমাদের অতি আদরের ছিল সে। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকেও বাঁচতে দেয়নি।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের ছয় বছর পর যখন দেশে আসি, যখন টুঙ্গিপাড়া যাই সেখানে একটা আলমারি ছিল। সেই আলমারির ভেতরে দেখি অনেকগুলো ছোট ছোট শিশুদের জামা তখনও পড়ে আছে। আমি জানতাম যে এইগুলো রাসেল ওই গ্রামের গরিব শিশুদের মাঝে বিতরণ করতো। তাদের আর্থিক সহায়তা দিত।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রকিবুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সদস্য সচিব মাহমুদুস সামাদ এমপি, উপদেষ্টা তরফদার রুহুল আমিন এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম শহীদুল্লাহও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]