শুদ্ধি অভিযান নেই ৮ দিন, তদন্তে ধীরগতি

আমাদের নতুন সময় : 19/10/2019

মাসুদ আলম : চলমান শুদ্ধি অভিযানের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ অভিযান শুরু হয়। এক মাসে অনেক রাঘববোয়ালের সা¤্রাজ্য তছনছ হয়ে গেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকে বিদেশে পালিয়ে গেছে। অনেকে আবার গ্রেপ্তার এড়াতে দেশে ফিরছেন না। কেউ কেউ এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। তবে অভিযানের পরবর্তী টার্গেট নিয়ে সর্বত্র এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। কোথায় গিয়ে থামবে এই অভিযান তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা।
এমনকি অভিযানের পরিধি নিয়ে রয়েছে নানা মত। এ পর্যায়ে এসে অভিযানের ইতি ঘটবে কিনা রয়েছে এমন আলোচনাও। সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান। এরপর আটদিন কোনো অভিযান নেই। তদন্তেও ধীরগতি। গ্রেপ্তারও হয়নি কেউ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, এটি অবশ্যই সাধুবাদ জানানোর মতো অভিযান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তার নিজ দল থেকে শুরু করেছেন। এটি শুভ নক্ষণ। শুধু দলের মধ্যে নয় সকল ক্ষেত্রে অভিযান চালাতে হবে। সুফল পেতে একটু সময় লাগবে, একমাসে তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে না। তবে মনে হয় অভিযানের গতি কিছুটা কমেছে।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম বেরিয়ে আসবে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
এর আগে ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হন আলোচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাঈল চৌধুরী স¤্রাট ও তার সহযোগী আরমান। বর্তমানে তাদের র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বিশেষ করে থেমে থেমে অভিযান চালিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে এ শুদ্ধি অভিযানে সাধারণ মানুষ খুশি।
প্রসাশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুদ্ধি অভিযান চলবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরো সক্রিয় হবে। শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক নয়, ঢাকার বাইরেও অভিযান চলবে।
পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, অভিযান শুরু পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩০টি ক্লাব ও বারে অভিযান চালানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজনের বাসায় তল্লাশি করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান টাকা, ডলার, স্বর্ণালঙ্কার, মাদক ও অস্ত্র। এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত স¤্রাট।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সর্বপ্রথম যুবলীগ নেতা খালেদকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর যুবলীগের নেতা জিকে শামীম, কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ, মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান, যুবলীগ নেতা আরমান ও কাউন্সিলর মিজানকে। স¤্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের রাঘববোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসলেও তাদের গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নেই। এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়া থানার আওয়ামী লীগের দুই নেতা এনামুল ও রূপনের বাড়িতে অভিযান চালানোর আগেই তারা পালিয়ে যান। পরে ওই দুই ভাইয়ের ৫টি ভল্ট থেকে প্রায় ৫ কোটি ৫লাখ টাকা, ৭২০ ভরি স্বর্ণালংকা ও ৬টি অস্ত্র পায় র‌্যাব। কিন্তু এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো তারা ধরা পড়েনি।
যুবলীগের একাধিক নেতা বলেন, অভিযানের পর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা বিদেশে পালিয়ে গেছেন। বিদেশে থাকা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমিনল হক সাঈদও দেশে ফিরছেন না। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]