• প্রচ্ছদ » » আবরার ফাহাদ হত্যা, দূষিত রাজনীতির কলঙ্কিত জননী


আবরার ফাহাদ হত্যা, দূষিত রাজনীতির কলঙ্কিত জননী

আমাদের নতুন সময় : 20/10/2019

ডা. জাকির হোসেন

প্রচÐ ক্ষুব্ধ আজকের মেধাবী সমাজ। ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকেটা ফুঁসে উঠেছে বাঙালি জাতি। প্রচÐ ক্ষোভে নিজেদের আড়াল করে রেখেছে হত্যাকারীদের পরিবারের সদস্যরা। চরম অস্থিরতায় নিমগ্ন ছাত্রছাত্রীদের অতি প্রিয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ক্যাম্পাস। প্রতিদিন একঝাঁক মেধাবী তরুণদের বিপ্লবী ¯েøাগানে প্রকম্পিত হচ্ছে রাজধানীর পিচঢালা রাজপথ। অনুশোচনার নীরব কান্নায় বুক ভেসে যাচ্ছে দায়িত্বের আসনে থাকা বুয়েটের শিক্ষকদের। মুখ ঢেকে গলা ছেড়ে বিপ্লবী গান গেয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠছে কোনো এক অজানা শিল্পীর প্রিয় গিটার। পথ নাটকে চরম পৈশাচিকতার আদিম আবহ ফুটিয়ে তুলছে নাম না জানা একদল থিয়েটার কর্মী। ভাষাহীন কালো কালির আঁচড়ে প্রতিবাদী লেখায় সয়লাব প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার সাদা পাতা। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একটি করুণ মৃত্যুর সংবাদ পড়তে গিয়ে অনেক সংবাদ পাঠকের চোখের কোণে কখন যে নোনা জলে ভরে গেছে একটুও টের পায়নি বোধহীন সংবাদ পাঠকেরা। ভার্চুয়াল জগতে প্রায় প্রতিটি স্ট্যাটাসে কমেন্টে আবরার হত্যাকাÐ নিয়ে প্রতিবাদী ট্রল আর নিন্দার ঝড়ে সয়লাব। ফেরারির মতো অসহায় এক নির্বাক বাবা কাঁধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক পৃথিবীসম সবচেয়ে ভারি বোঝা, নিষ্পাপ এক সন্তানের লাশের কফিন। সন্তানহারা এক নিষ্পাপ মায়ের গগণবিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত হচ্ছে গ্রাম বাংলার আকাশ-বাতাস। শুধু বুকভরা জ্বালা নিয়ে কবরবাসী হয়ে শান্ত ছেলেটি অতি বেশি শান্ত হয়ে গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে গেছে। বুকভরা অভিমানে আর কোনোদিন ফিরবে না মেধাবী সহপাঠীদের মাঝে। আর কোনোদিন অংশগ্রহণ করবে না মেধাবীদের কোনো প্রতিযোগিতামূলক কোনো পরীক্ষায়। বলছিলাম মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বড় অসময়ে চলে যাওয়ার কথা। পচে যাওয়া রাজনীতির এক করুণ পরিণতির শিকার আবরার ফাহাদ। পচন ধরা এই রাজনীতির নোংরা খেলায় সোনার বাংলায় এখন প্রতিনিয়ত হায়েনের পদধ্বনিতে মুখরিত। যে ছাত্র রাজনীতি এ দেশের শোষিত মানুষের অধিকারের কথা বলতো। যে ছাত্ররাজনীতি শোসকের রিরুদ্ধে বিপ্লবের ¯েøাগান দিতো, যে ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে সাত কোটি বাঙালির মুক্তির ছায়াপথ বিনির্মাণ হয়েছে। যে ছাত্ররাজনীতির হাত ধরে স্বপ্নের দেশ সোনার বাংলার উদয় হয়েছে। সে ছাত্ররাজনীতি আজ পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে ময়লার ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরের বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাÐের সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ছাত্ররাজনীতির জড়িত থাকা নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্বজিৎ থেকে নুসরাত, নুসরাত থেকে রিফাত এবং সবর্শেষ তুখোড় মেধাবী বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যা করার দায় পুরোপুরিভাবে ঘুনে ধরা এই নষ্ট ছাত্ররাজনীতির উপর বর্তায়। তাই সময় হয়েছে জাতি কিংবা জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নতুন করে ভাবার। এখনই সময় এই নষ্ট রাজনীতির লাগাম টেনে ধরার। নতুবা বিপর্যের মুখে পড়বে পুরো রাজনীতি। স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। আর এই দায় থেকে দেশবাসী কখনোই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমা করবে না। লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]