• প্রচ্ছদ » » তাহলে কি ছাত্ররাজনীতির মধ্যে ভালো কিছুই নেই?


তাহলে কি ছাত্ররাজনীতির মধ্যে ভালো কিছুই নেই?

আমাদের নতুন সময় : 20/10/2019

মাসুদ কামাল

তাহলে কি ছাত্ররাজনীতির মধ্যে ভালো কিছুই নেই? তা কি করে হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেই কথাটিই বলেছেন। ছাত্ররাজনীতি বন্ধের প্রস্তাবগুলো তিনি দৃঢ়ভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। আসলে যারা বাংলাদেশের ইতিহাস জানেন, এই দেশের জন্মের এবং টিকে থাকার ইতিহাস জানেন, তাদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া আসাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস ঐতিহ্যপূর্ণ। ছাত্ররাজনীতির এতো সমৃদ্ধ ইতিহাস বিশ্বের অন্য কোনো দেশের আছে কিনা সন্দেহ। যেমন ধরা যাক, সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা। সেই অন্দোলনের মূল শক্তিই কিন্তু ছিলো ছাত্ররা। জাতির সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের সময় কোনো রাজনৈতিক দল কিন্তু মূল ভ‚মিকাটি রাখতে পারেনি। বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গঠন থেকে শুরু করে সরকারের বিরোধিতা, বিধিনিষেধ লঙ্ঘনÑ সব কিছুর সামনেই ছিলো ছাত্ররা। আবার যদি আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা বলি, সেখানেও ছাত্রদের ভ‚মিকা কিন্তু মূল রাজনৈতিক দলের প্রায় সমান্তরালেই দেখা গেছে। নানা কৌশলগত কারণে নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ যা করতে পারেনি, সেসব করেছে ছাত্রলীগ। একথা ঠিক যে, ছাত্রলীগের সে কর্মকাÐে বঙ্গবন্ধুর প্রচ্ছন্ন সম্মতি ছিলো, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান তো ছিলো ছাত্রলীগের ভ‚মিকাটিই। আবার ধরা যাক স্বাধীনতার পর এরশাদের সামরিক শাসনের পতনের আন্দোলনটির কথাই। এরশাদবিরোধী সেই আন্দোলনেও রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনগুলোরও ছিলো গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা।
তেমন ভ‚মিকা রাখা ছাত্র সংগঠন কোথায় এখন ক্যাম্পাসে? প্রতিটি ক্যাম্পাসে বলতে গেলে এখন একটিই ছাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বলা হয়ে থাকেÑ এটিই দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন। কিন্তু দেশে ছাত্রদের অধিকার কিংবা দাবি-দাওয়া আদায়ে সবচেয়ে বড় এই ছাত্র সংগঠনের ভ‚মিক কতোটুকু? নিকট অতীতের দিকে তাকালে আমাদের হতাশই হতে হয় কেবল। এই সময়ের তিনটি ঘটনার কথা বলা যায়। কোটা বাতিলের আন্দোলন, রাজধানীতে সড়কে শৃঙ্খলা নিয়ে আন্দোলন এবং অতি সম্প্রতি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন। এই তিনটি ঘটনাতেই ছাত্রলীগের কি ভ‚মিকা ছিলো? বরং ভ‚মিকা ছিলো অরাজনৈতিক ছাত্রদের। আর এই তিনটি আন্দোলনেই সাধারণ ছাত্রদের ছিলো স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যায় ছাত্রদের দাবি-দাওয়া আদায় দূরে থাক, ছাত্রদের সাধারণ অনুভ‚তিকেই স্পর্শ করতে পারছে না ছাত্রসংগঠনগুলো। অথচ ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই কিন্তু ছিলো সেটি। মূল লক্ষ্য থেকে এরা দূরে সরে গেছে। সরে গিয়ে সময় ও সামর্থ ব্যয় করছে সম্পদ ও ক্ষমতা অর্জনে। ছাত্রদের চাওয়া-পাওয়ার দিকে নজর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কি নির্মাণ বা সংস্কার কাজ হচ্ছেÑ সেসব ছাত্রলীগ নেতাদের নখদর্পণে থাকে। কোন কাজ কোন ঠিকাদার করছে, কিংবা কোন ঠিকাদারকে দিয়ে করাতে হবেÑ সেসবও জানে তারা। এছাড়াও বিভিন্ন তদবির, মন্ত্রণালয়ে বড় ভাইদের দপ্তরে নিয়মিত হাজিরাÑ এসব কাজেই তাদের সময় বেশি ব্যয় হয়।
কিন্তু ছাত্র সংগঠনের চরিত্র তো এমন হওয়ার কথা ছিলো না। আগে তো এমন ছিলোও না। কেন এমন হলো? রাজনৈতিক দলগুলো, কিংবা এর কতিপয় নেতা কি তাহলে নিজেদের স্বার্থে ছাত্র সংগঠনকে এভাবে ব্যবহার করছে? এসব প্রশ্নের উত্তর যা-ই হোক, সাধারণ মানুষের দাবি একটাই, আর তাহলোÑ ছাত্ররাজনীতি যদি ছাত্রস্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকতে পারে, তাহলে সে রাজনীতির দরকার নেই। ছাত্ররাজনীতি যদি অর্থ, সম্পদ কিংবা ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে হয়ে থাকে, তাহলে সে রাজনীতির দরকার নেই। ছাত্ররাজনীতি যদি ছাত্রদের পিতা-মাতার জীবনে স্থায়ী হাহাকারের কারণ হয়, তাহলে সে রাজনীতির দরকার নেই। কিন্তু ছাত্ররাজনীতিকে সঠিক পথে নিয়ে আসার এই কাজটা করবে কে? ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছাত্ররা, নাকি তাদের নিয়ন্ত্রণকারী জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো? এই প্রশ্নগুলো নিয়েই এখন ভাবতে হবে। সূত্র : ঢাকা টাইমস। লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]