• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » ব্র্যাকের উন্নয়ন তত্ত্বের অনুসরণে সৃষ্টি হয়েছে অভিজিৎদের আরসিটি পদ্ধতি


ব্র্যাকের উন্নয়ন তত্ত্বের অনুসরণে সৃষ্টি হয়েছে অভিজিৎদের আরসিটি পদ্ধতি

আমাদের নতুন সময় : 20/10/2019

বিশ্বজিৎ দত্ত : অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়রা র‌্যান্ডম কন্ট্রোল ট্রায়াল(আরসিটি) পদ্ধতিটিকেই নিয়ে এসেছেন অর্থশাস্ত্রের চর্চায়। আর এই পদ্ধতিটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ব্যবহার করছে ২০০২ সাল থেকে। ব্র্যাকের ব্যবহত দরিদ্র বিমোচনের পদ্ধতিটির নাম আলট্রা পুওর গ্রাজুয়েশান মডেল। আর ব্র্যাকের এই পদ্ধতির অনুসরণেই অভিজিৎ, দুফালো ও ক্রেমার এবারে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। তাদের উন্নয়নের পদ্ধতিটি হলো, উন্নয়নের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে তারভিত্তিতে উন্নয়নের নীতি নির্ধারণ।যেমন স্বাস্থ্যখাতে দুর্বলতা, শিক্ষায় ঘাটতি থাকায় গরিব মানুষ গরিবই থেকে যায়। তিনি এগুলোর কার্য-কারণ খুঁজেছেন এবং সমাধান বার করেছেন। তার জন্য অভিজিৎরা বেছে নিয়েছেন একই রকম আর্থ-সামাজিক পরিবেশের বেশ কিছু জনপদ। সেগুলোকে দুটো দলে ভাগ করা হয়। একটি ট্রিটমেন্ট গ্রুপ অন্যটি কন্ট্রোল গ্রুপ। ট্রিটমেন্ট গ্রুপে প্রয়োগ করা হয় নতুন কোনও নীতি, আর কন্ট্রোল গ্রুপ চলতে থাকে আগের মতোই। কিছু দিন পরে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা হয়, ট্রিটমেন্ট গ্রুপের অবস্থা বদলাল কি না। বদলালে, কতখানি? সেই ফলাফলই বলে দেয় নতুন পদ্ধতি সফল হল কি না।
এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, অভিজিতদের ত্বত্ত্বের সঙ্গে ব্রাকের দরিদ্র বিমোচন মডেলটির মিল রয়েছে। তবে কতটুক তা এখনো আমি যাচাই করিনি। ব্র্যাকের আলট্রাপুওর গ্রাজুয়েশান মডেলের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো সম্পদের ব্যবস্থাপনা। দারিদ্রদের জন্য শুধু ঋণ নয় তাদের জন্য সম্পদ সৃষ্টি করা হলেই তারা দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পাবেন। পশ্চিম বঙ্গের শ্রীপদ সিংকলেজের অধ্যাপক দেবযানী ভৌমিক ফেসবুকে লিখেন, ব্র্যাক ২০০২ সালে যা শুরু করেছিল। যেমন শুধু দারিদ্র দূর করাই নয় প্রয়োজন মত গবাদি পশু বা হাঁস মুরগি প্রদান করা। যাতে তাদের উপার্জনেরও ব্যবস্থা হয়।তার অনুসরনেই অভিজিৎরা তার মডেল সৃষ্টি করেছেন।
অভিজিৎরা দেখিয়েছেন মাইক্রোফিন্যান্স বা ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র কমায় না। হায়দরাবাদে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিলেন অভিজিৎ বিনায়ক, ক্রেমার ও তাঁদের সহকর্মীরা। ১০৪টি বস্তি বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। সেগুলির অর্ধেক, অর্থাৎ ৫২টিতে এক ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার সহযোগিতায় খুলেছিলেন ঋণ দেওয়ার শাখা, আর বাকি ৫২টি ছিল পূর্ববৎ। মোট প্রায় ৭,০০০ পরিবার এসেছিল এই সমীক্ষার আওতায়। পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার আগে এই বস্তিগুলোর মধ্যে বিশেষ ফারাক ছিল বকেয়া ধার, মাথাপিছু ব্যবসার পরিমাণ, মাথাপিছু খরচ, সবই কার্যত এক রকম ছিল দু’দিকের বস্তিতেই। ৫২টি বস্তিতে ঋণ দেওয়া হল। তার ফলাফল বিচার করতে বসে দেখা গেল, যে ব্যবসাগুলো আগে থেকেই ছিল, তাতে লগ্নির পরিমাণ বেড়েছে, লাভের পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু, পরিবারগুলোতে মাথাপিছু ভোগব্যয় বাড়েনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা নারীদের ক্ষমতায়নেরও উন্নতি হয়নি। বরং, কনজিউমার ডিউরেব্লস যাকে বলে, সেই গোত্রের পণ্যের পিছনে ব্যয় বেড়েছে। তার পরীক্ষায় বোঝা গেল, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করলেই দারিদ্র কমবে, উন্নয়ন হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এখানে অভিজিৎ স্পষ্ট করেন, দারিদ্র কমছে কি না, তা দেখতে গিয়ে সংশয়াতীত ভাবে বোঝার উপায় ছিল না যে সেটা শুধু প্রকল্পের ফলেই কমছে, না কি অন্য কোনও প্রভাবও পড়ছে তার ওপর। অভিজিৎ বিনায়করা এই খামতি পূরণ করেছেন।
ব্র্যাকের আল্ট্রাপুওর গ্রাজুয়েশান তত্ত্বও ঠিক একই রকম। ২৪ মাসে ধাপে ধাপে অতিদরিদ্র থেকে বের করে আনা হয় পরিবারগুলোকে। তাদের শুধু আর্থিক বিষয়েই সহায়তা নয়। তাদের জন্য নিশ্চিত করা হয়, পরিবারের ৩টি আয়ের উৎস্য, পরিবারটির ২ বেলা খাবারের সংস্থান, সপ্তাহ শেষে ডিম অথবা মাংস খেতে পারে কিনা। বাড়িতে স্যানিটারি ল্যাট্রিন, বিশুদ্ধ খাবার পানি, বাড়িতে ৪টি ফল ও কাঠের গাছ রোপন ৫ জোড়া হাঁস অথবা মুরগি। বাচ্চাদের স্কুল, বাল্য বিবাহ রোধ, ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ। এভাবেই বাস্তব কর্মসূচির মধ্যেমে দূর করা হয় দরিদ্র।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]