• প্রচ্ছদ » » মানুষ প্রায়ই বলতো ‘কোন রেশনের চাল খাও’?


মানুষ প্রায়ই বলতো ‘কোন রেশনের চাল খাও’?

আমাদের নতুন সময় : 20/10/2019

ফেরদৌস আমান

মনে আছে কি সেই রেশন কার্ডের কথা? চাল, ডাল, তেল, চিনি, ডালডা, গম, ময়দা ইত্যাদি নিয়ম করে মাসে মাসে রেশন দোকান থেকে তুলে আনতাম। মাঝে মধ্যে বিস্কুট এবং শক্ত একধরনের পনির দিতো। চালের কোয়ালিটি খুবই খারাপ থাকতো। তবে মাঝে মাঝে বাসমতি দিতো। আমরা চালটা অন্যদের দিয়ে দিতাম, কারণ আমাদের চাল আসতো বাড়ি থেকে। শ্রেণি পার্থক্য না মেনে সবারই এই রেশন কার্ড ছিলো। মানুষ প্রায়ই বলতো ‘কোন রেশনের চাল খাও’? আমার খুবই লজ্জা লাগতো রেশনের দোকানে যেতে। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবী বাবার বেতন আর কতোই বা ছিলো, ২০০ বা ৩০০, এর বেশি তো নয়? বাবার আইন পেশায় যোগদানের পরও শুরুতে অনেকের মতোই আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। ফলে এই রেশন কার্ডটিই ছিলো আমাদের অতি ভালোবাসার একটি প্রতীক। পরবর্তীকালে বাবার আইন পেশার বিরাট সাফল্য দেখা দিলে আমরা সেসব রেশন কার্ড আর ন্যায্যমূল্যের দোকানের কথা ভুলে গেলাম। শহরাঞ্চলের মানুষ তা সে সচিবই হোক আর নি¤œমান করণিকই হোক আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকই হোক সবার কাছেই তেলচটচটে এই রেশন কার্ডটিই ছিলো নিজের ডিগনিটি নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন (সবারই বেতন ছিলো ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে এবং ৬০-এর দশকে, ৭০-এর দশকে এবং ৮০’র দশকে কারও কোনো বেতন বাড়ার গন্ধই নেই)। সরকারি চাকরিজীবী, প্রতিবন্ধী, বিধবা, মুক্তিযোদ্ধাদের রেশনে অগ্রাধিকার দেয়া হতো। এসডিও, সিও, ডিসি, এসপি, জজ সাব সবাই এই রেশন দিয়েই চলতেন। মধ্যস্বত্বভোগী দালাল ফড়িয়াদের কারসাজি ঠেকাতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে লিবারেশনের আগে-পরে এই রেশনিং সিস্টেমটা একটা সহায়ক ভ‚মিকা পালন করেছিলো। ৮০’র দশক পর্যন্ত মনে হয় এটি চালু ছিলো। আমরা ধনী হয়ে যাওয়ার পর শহরাঞ্চলে সামাজিক ন্যায়বিচারের এই উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়। রেশনের ডেট এক্সপায়ার্ড ডালডা দিয়ে কড়াভাজার পরোটা এবং ঘিয়ে ভাজা সুজির হালুয়ার কথা মনে হলেই সেই পুরনো দিনের স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানোটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে আমার। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]