• প্রচ্ছদ » » ঘৃণ্য এই নারীবিদ্বেষী সমাজে মেয়েরা কী করে বেঁচে আছে!


ঘৃণ্য এই নারীবিদ্বেষী সমাজে মেয়েরা কী করে বেঁচে আছে!

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2019

তসলিমা নাসরিন : কার সঙ্গে ছিলো আমার প্রেম, কার জন্য আমার ছিলো কী অনুভব, কাকে কতোটুকু ভালোবেসেছি, কে আমাকে কীভাবে আঘাত দিয়েছে, কারা প্রতারণা করেছে, কারা সর্বনাশ করেছে, তাছাড়া সত্যের জন্য, সততার জন্য, সমতার জন্য আমার নিরন্তর আত্মত্যাগ, আমার আপোসহীন সংগ্রাম কী করে গিয়েছি জীবনভরÑ সব আমি আত্মজীবনীতে লিখেছি। লোকে কিন্তু সেসব পড়ে অথবা শুনে আমার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বলতে গেলে কেবল কার কার সঙ্গে আমি শুয়েছিÑ তারই বিশদ বর্ণনা করে। সেই নামগুলোর সঙ্গে নিজের পছন্দমতো আরও কিছু নাম জুড়ে দিয়ে অবশ্যই আমার আত্মজীবনীতে কিন্তু রুদ্র নামে এক কবির কথা আছে। আছে কারণ তার সঙ্গে আমার এককালে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিলো। আমি তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তার সম্পর্কে প্রচুর তথ্য আমার আত্মজীবনীর দ্বিতীয় খÐ ‘উতল হাওয়া’ আর তৃতীয় খÐ ‘দ্বিখÐিত’ ক. থেকেই নেয় তারা, যারা তার সম্পর্কে এখন নিবন্ধ প্রবন্ধ লেখে। রুদ্রর কবিতার প্রশংসা আমার লেখায় প্রচুর আছে, সেইসঙ্গে আছে আরও তথ্য যে, সে নিয়মিত গণিকাগমন করতো, সে নানা যৌনরোগ বাধিয়ে আসতো গণিকালয় থেকে এবং সংক্রমিত করতো সেই মেয়েকে, যে তাকে প্রচÐ ভালোবাসতো এবং বিশ্বাস করতো। তাকে মিথ্যা কথা বলতো যে, সে কখনো গণিকাগমন করে না, ধরা পড়ার পরই শুধু স্বীকার করতো। আমার আত্মজীবনী থেকে তার কবিতার প্রশংসাটুকু আলগোছে তুলে নিয়ে লোকেরা আবেগে মরে যাই মরে যাই গোছের লম্বা লম্বা লেখা লেখে। তার প্রতারণার কথা, কিন্তু কেউ উল্লেখ করে না। তার চরিত্রের এই দিকটি কেউ তুলে ধরে না যে, মদ্যপান এবং গণিকাগমন ছাড়া তার দিন চললেও, রাত চলতো না। তার চরিত্র সম্পর্কে বলতে গেলে বোহেমিয়ান ছিলো, বিপ্লবী ছিলোÑ এমন রোমান্টিক সব শব্দই লোকেরা ব্যবহার করে। একটি গান লোকের মুখে মুখে ফেরে, সেকারণে গীতিকারের মিথ্যা মাফ, প্রতারণা মাফ, লাম্পট্য মাফ। সমাজে মেয়েদের অধিকারের জন্য বিপ্লব করলেও আমাকে বিপ্লবী বলে ডাকা হবে না। আমি শুধু ক’টার সঙ্গে শুয়েছি, সেটাই দেখা হবে। এই হলো পুরুষাঙ্গ পূজারীদের সমাজ। এই ঘৃণ্য নারীবিদ্বেষী সমাজে নারীরা কী করে বেঁচে আছে তা আত্মসম্মান আছে যে নারীদের, তারাই একমাত্র জানে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]