নানা কথা বলে নিজেকে বাঁচাতে চাইছেন রাশেদ খান মেনন

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2019

সমীরণ রায় : ‘একাদশ নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এর সাক্ষী নিজে আমি’ গত শনিবার বরিশালে এমন কথা বলে জাতীয় রাজনীতি এবং ১৪ দলে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তবে এই সমালোচনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে নানা কথা বলছেন তিনি। রোববার তোপখানা রোডের ওয়ার্কাস পার্টির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি বলেন, বরিশালে উন্নয়ন, দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে কথা বলেছি। পাশাপাশি একাদশ নির্বাচন প্রসঙ্গও এসেছে। সেখানে আমি ৪৫ মিনিটের বক্তব্য দিয়েছি। কিন্তু আমার দুই লানের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য জাতীয় রাজনীতিতে ও ১৪ দলে একটা ভুল বার্তা গেছে। এখানে একটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
মেনন বলেন, বরিশালে আমাদের (১৪ দলের) প্রার্থী ছিলো। ওই প্রার্থী হেরে গিয়েছিল। সে কারণেই নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। এ কথা আমি আগেও বলেছি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর দেওয়া বক্তব্যেও আমি বলেছি। বাজেট বক্তৃতায় বলেছি। একাদশ নির্বাচনে কিছু সরকারি কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হওয়ার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এই কথায় কোনোভাবেই একাদশ নির্বাচন ও সংসদ অবৈধ হয়ে যায় না। শুধু তাই নয়, সংসদে অবস্থান করা কোনোভাবে সাংঘর্ষিক হয়না। যদিও একাদশ নির্বাচন ১৪ দলের ও সরকারের সংগ্রামের ফসল। মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতার যে বিপদ বিদ্যমান তাকে মোকাবেলা করতে ১৪ দলের ওই সংগ্রামকেই এগিয়ে নিতে হবে। একাদশ নির্বাচন সফল নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি জামায়াত নির্বাচন ভ-ুল করার ষড়যন্ত্র করেছিলো। তারা জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল প্রয়োগ করেছে নির্বাচনে। এটা যেমন সত্য এই নির্বাচন অশুদ্ধ ও অবৈধ হয়ে গেছে তাও বলছি না। জিয়াউর রহমান ও এরশাদের আমলে ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে ১৪ দল আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। তবে আমার সরকার বিব্রত হবে এটা কামনা করি না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে ভোটাধিকার ও ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে আমরা যে লড়াই করেছি তা যেন বৃথা না যায় সে জন্য নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে নির্বাচন ইস্যুতে যেগুলো সংস্কার প্রয়োজন সেটি করতে হবে। জনগণের আস্থা তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রীত্ব নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় আমাকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়নি। আমরা তো ১৪ দল ছেড়ে চলে যায়নি। তারপর ২০১২ সালে আমাকে মন্ত্রীত্ব নিতে বলা হলেও আমি ফিরিয়ে দিয়েছি। পরে মন্ত্রী বানিয়েছে। তার মানে এখন মন্ত্রী হয়নি বলে আমি ১৪ দল ছেড়ে চলে যাবো- এটা একেবারেই ঠিক নয়। আমি কিন্তু একথা শনিবারই বলেছি, তা কিন্তু নয়।
ক্যাসিনোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না ক্ষতিয়ে দেখবে সরকার ড. হাছান মাহমুদ এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে আমি ক্যাসিনো নিয়ে কথা বলবো না। তবে পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। ক্যাসিনো ইস্যুতে যদি আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়, হবে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমিও চাই যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, এটি যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হোক। আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]