নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব এক নয়

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2019

ড. এমদাদুল হক

অহং একাকীত্ব পছন্দ করে নাÑ অহং সঙ্গ চায়, বিনোদন চায়, কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চায়। একা হলেই যদি অস্বস্তি লাগে, হতাশা আসে, ব্যর্থতার উপলব্ধি হয় কিংবা নিজেকে পরিত্যক্ত মনে হয়, তবে বুঝতে হবে এসব অহংয়ের খেলা। নদী যেমন সমুদ্রের কাছাকাছি এলে ধীর হয়ে যায় তেমনি জীবন সত্যের কাছাকাছি এলে ধীর হয়ে যায়। আত্মা চায় নীরবতা। আত্মোপলব্ধির পথÑ নীরবতার পথ, একাকীত্বের পথ। তাই এই পথ অনুসরণ করা যায় না। ধর্ম অনুসরণ করা সহজ, তরিকা অনুসরণ করা আরও সহজ। কেন সহজ? সহজ এই কারণে যে, কোনো একটি গোত্রের সদস্য হয়ে গেলে মনে হয়Ñ ‘আমি আর একা নই’। গোত্র একধরনের সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এর বিনিময়ে সবচেয়ে মূলবান যে জিনিসটি হরণ করে, তাহলো একাকীত্ব, নীরবতা। সব ধর্ম, সব মতবাদ, সব গুরু, ধ্যানের সব কলা-কৌশল মন থেকে মুছতে না পারলে মনে শূন্যতা সৃষ্টি হয় না। শূন্যতা ছাড়া পূর্ণতার উপলব্ধিও সম্ভব নয়।ধর্ম নেই, গোত্র নেই, ঈশ্বর নেই, গুরু নেই, কী আছে তবে? কিছু নেই। কোথাও কেউ নেই। করার কিছু নেই। বলার কিছু নেই। পড়ার কিছু নেই। জানার কিছু নেই। কোথাও যাওয়ার নেই। কারও আগমনের অপেক্ষা নেই। এই হলো একাকীত্ব। আমি একা। আমি এক। আমার আছে আমি। আমির সম্মুখে দাঁড়িয়ে আমি। একা, সম্পূর্ণ একা। একাকীত্বের এই সময়টুকু সহ্য করা বড়ই কষ্টকর। কিন্তু কষ্টের নদী পার না হয়ে কৈলাসে পৌঁছানোর আর কোনো পথ নেই। নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব কিন্তু এক নয়। নিঃসঙ্গতা হলো সঙ্গের অভাব। একাকীত্ব হলো একত্বের ভাব। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]