• প্রচ্ছদ » » ভাইরাল বিষয়টি যেন মানসিক ভাইরাসে পরিণত না হয়


ভাইরাল বিষয়টি যেন মানসিক ভাইরাসে পরিণত না হয়

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2019

সৈয়দ ফারুক হোসেন

কোনো ছবি, ভিডিও বা লেখা অনলাইনে বানের মতো প্রচার গতিতে বয়ে গেলে আমরা সেটাকে বলি ভাইরাল। এই ছবি, ভিডিও বা লেখাগুলো অনেক সময় বানের তোড়ে ভেসে যায়। কোনো কোনোটি স্রোত থেকে বেরিয়ে স্থায়ী আসন গাড়ে। এর কোনো কোনোটি সমাজে মারান্তক প্রভাব ফেলে। কিছু ভাইরাল বিষয় স্রেফ আনন্দ দিয়ে যায়, কোনোটি ভাবায় কিংবা কাঁদায়। আজকাল ভাইরাল করা অনেকটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে শুধু পপুলার হওয়া বা খ্যাতি পাওয়ার জন্য নিজেই নিজের ভাইরাল ভিডিও সৃষ্টি করেছে। তবে আমাদের সমাজে ভাইরাল শব্দটি অনেকটা নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। কেউ একটা খারাপ জিনিস করলেই সেটা সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল করে দিচ্ছে। অন্যের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এসে তার স¤পর্কে গোপন তথ্য ভাইরাল করে দিচ্ছে। এমনকি আন্তহত্যার মতো বিষয়টি আজকাল ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। এ তো গেল একশ্রেণি যারা অন্যের দ্বারা ভাইরালের স্বীকার হচ্ছে। আর এক শ্রেণি রয়েছে যারা নিজেরাই নিজেদের ভিডিও ভাইরাল করছে শুধু খ্যাতি পাওয়ার জন্য। এর মাধ্যমে শুধু যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেগেটিভ ব্যবহার করছে তাই নয়, নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে। অনেকেই নিজের আবেগকে সামলাতে না পেরে এমন সব কাজ করছে, যা আইন ভঙ্গ করছে। যা পরবর্তী সময়ে তার ব্যক্তিক ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। ভাইরাল যে শুধু নেগেটিভ হতে হবে তা কিন্তু নয়। বর্তমান যুবসমাজ অনেক বেশি সচেতন। তারা অন্যায়ের বিরদ্ধে কাজ করার নতুন মাধ্যম সৃষ্টি করেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে। যেখানেই অন্যায় দেখছে তা ভিডিও করে বা ব্লগিংয়ের মাধ্যমে ভাইরাল করে দিচ্ছে। যার কারণে সমগ্র জাতির মধ্যে একধরনের সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই কোনো কিছু ভাইরাল করার আগে তার পজিটিভ-নেগেটিভ দুটো দিকই বিবেচনায় আনতে হবে। এক যুগ আগেও ভাইরাল শব্দটি ছিল আতঙ্কের কারণ। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ভাইরালকে দিয়েছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি। অনেকেই এখন ভাইরাল হতে চান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাইরাল হওয়ার জন্য খোঁজে নানা উপায়। মুদ্রার উল্টো দিকও আছে; অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার কারণে অনেকের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ, ছড়ায় ভুল তথ্য। নেতিবাচক এমন হাজারো ছবি, ভিডিও বা লেখা আছে ইন্টারনেটে। অনলাইনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই এর অন্যতম সমাধান। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ভাইরাল মানেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেহেতু কোনো স¤পাদক নেই, যা ইচ্ছা তা–ই শেয়ার করা যায়। অতএব নিশ্চিত না হলে যাচাই করে নেওয়াই উত্তম। ডেপুটি রেজিস্ট্রার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]