• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » মিয়ানমার আমাদের সঙ্গে দুষ্টামি করেছে, কিছু চালানে বাজে পেঁয়াজ পাঠিয়ে দিয়েছে, জানালেন বাণিজ্য সচিব


মিয়ানমার আমাদের সঙ্গে দুষ্টামি করেছে, কিছু চালানে বাজে পেঁয়াজ পাঠিয়ে দিয়েছে, জানালেন বাণিজ্য সচিব

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2019


মেরাজ মেভিজ : ভারতীয় নিষেধাজ্ঞায় রাতারাতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে সেঞ্চুরি পার করে পেঁয়াজের দাম। এরপর কিছুটা কমলেও শেষ কয়েক দিনে আবারও বাড়ছে এর ঝাঁজ। ফের সেঞ্চুরিতে নট আউট পেঁয়াজ। এমন অবস্থায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ট্রাক সেলের আওতায় কমদামে পেঁয়াজ মিললেও অভিযোগ রয়েছে এতে বিক্রি হচ্ছে মিয়ানমার থেকে কেনা নষ্ট পেঁয়াজ। সাধারণ ক্রেতাই নয়, বৈদেশিক বাণিজ্যে পেঁয়াজের এমন ঝাঁজে নাকাল খোদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও। মিয়ানমার থেকে আমদানী করা বাজে পেঁয়াজের দায় অকপটে স্বীকার করে এবার নতুন রুটে আমদানী পরিকল্পনার কথা জানালেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন।
বাণিজ্য সচিব মুঠোফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে যে কয়টি চ্যালেজ্ঞ ছিল তার মধ্যে পেঁয়াজের দাম একটি। দেশের চাহিদা দ্রুত মেটাতে মিয়ানমার থেকে আমাদের উল্লেখযোগ্য হারে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়েছে। তবে ওরা (মিয়ানমার) আমাদের সঙ্গে কিছু দুষ্টামি করেছে। কিছু চালানে বাজে পেঁয়াজ পাঠিয়ে দিয়েছে। এটাই হয়তো সাধারণ বাজার থেকে কিনে বিক্রি করছে টিসিবি।
সরকারি বিপণন সংস্থার বিরুদ্ধে সাধারনের এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গতকাল সরেজমিন অনুসন্ধানে মিলেছে সত্যতা। রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি মোড় এবং ধানমন্ডির ঝিগাতলা এলাকায় টিসিবির ট্রাক গুলো থেকে যে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে তার প্রায় ২৫-৩০ শতাংশই ছিল নষ্ট। আর এ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ছিল অসহায় আর্তনাদ।
খামারবাড়ির বিক্রয় প্রতিনিধি মনির হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, তিন-চার দিন ধরেই বার্মার (মিয়ানমার) পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন। আসলে পেঁয়াজতো লম্বা সময় রাখা সম্ভব নয়। যে গুদাম থেকে আমরা এখন পেঁয়াজ আনছি সেখানে কিন্তু এগুলো বস্তা আকারে থাকে, তাই এর ভেতরের অবস্থা আমরা বুঝতে পারি না।
সাধারণ মানুষ যখন পেঁয়াজের দামে নাকাল তখন টিসিবি’র ট্রাক সেলের নামে এমন নষ্ট পণ্য বিক্রির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, আমরা যখন ওদের (ডিলার) বস্তায় করে পেঁয়াজ দেই তখন ওদের বলি এগুলো একটু খুলে আলো-বাতাসে রাখতে কিন্তু ওরা সেটা করে না এটা একটা কারণ। আর তাছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ একটু বেশী রসালো তাই এমনিতেই একটু কালো মনে হয়। আমি এটুকু বলতে পারি বাজারে মিয়ানমারের যত পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে আমাদের পেঁয়াজই সবচেয়ে ভালো।
বাজার উঠে আসে মিয়ানমারের পেঁয়াজ নিয়ে অভিযোগ, বাণিজ্য সচিব অবশ্য জানালেন নতুন পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমার থেকে আপাতত পেঁয়াজ আনছি না। এবার আমাদের পেঁয়াজ এসেছে মিশর, তুরস্ক ও চীন থেকে। চট্টগ্রাম বন্দরে কিছু চালান এরইমধ্যে পৌঁছে গেছে। তাই দুই-এক দিনের মধ্যেই সাধারণ বাজারে পেঁয়াজের দাম কমবে।
প্রসঙ্গত, গত অক্টোবরে হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পর থেকে ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছে টিসিবি। ৪৫ টাকা কেজিতে এই পেঁয়াজ মিলছে রাজধানীর ৩৫টি স্থানে। আর গতকালের হিসাবে খোলা বাজারে দেশি-বিদেশি ভেদে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১১০ টাকা দরে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]