• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » সৌদিফেরত নারী কর্মীদের কান্না, বিশ্লেষকরা বলছেন, সমঝোতা চুক্তি নয় সরাসরি আইনী প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানো উচিত


সৌদিফেরত নারী কর্মীদের কান্না, বিশ্লেষকরা বলছেন, সমঝোতা চুক্তি নয় সরাসরি আইনী প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানো উচিত

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2019

তাপসী রাবেয়া : গত তিন বছরে কমপক্ষে পাঁচ হাজার নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এই নারীদের একটি বড় অংশ যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের প্রতি মাসে গড়ে ২০০ করে নারী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৪শ নারী ফিরেছেন দেশে। এসব তথ্য উঠে এসেছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রতিবেদনে।
গত বছরের অগাস্ট মাসে সৌদি আরবে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঐ ভিডিওটিকে নিয়ে তখন অনেক সংবাদমাধ্যম খবর পরিবেশন করে এবং শেষ পর্যন্ত নির্যাতনের সত্যতাও পাওয়া যায়। নির্যাতনের শিকার ফেরত আসা এক নারী শ্রমিক বলেন, প্রতি রাতেই শরীরের ওপর চলত নির্যাতন। প্রতিবাদ করলেই মারধর। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়তাম। কিন্তু তাতে তারা থেমে যেত না। ওই অবস্থায়ই শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারতাম সেটা। কিছু বললে বলত, তোকে কিনে এনেছি, যা ইচ্ছা করব।
গত ২৬ আগস্ট সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন এই নারী। সেদিন তার সঙ্গে আরও ১১১ নারী দেশে ফেরেন। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। পরে সেই প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ফেরা ১১১ নারীর মধ্যে ৩৮ জন যৌন নির্যাতনের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
যৌন নির্যাতনের শিকার এসব নারীর কথায় ফুটে উঠেছে নির্মম মারধরের বর্ণনা। তারা বলছেন, সুস্থ মানুষ হিসেবে সৌদি যাওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে অসুস্থ হয়ে ফিরতে হয়েছে।
বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, আমাদের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিদেশে পাঠাতে হবে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১১ সালে ফিলিপাইন্স ও শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সাল থেকে সৌদি শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বন্ধ ছিল। সে কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠাতে রাজি হয়। কিন্তু বাংলাদেশ তখন ভাবেনি যে অন্যরা যখন সৌদি আরবে নির্যাতনের কারণে নারী শ্রমিক পঠানো বন্ধ করেছে, আমরা কেন পাঠাচ্ছি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, ‘নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকদের ফিরে আসা সম্পর্কে সরকার অবগত। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সর্বশেষ সফরেও দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর সারোয়ার আলম বলেন, ‘আমরা নির্যাতনের অভিযোগ পাই। এরমধ্যে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও আছে। আইনগত প্রতিকার পেতে হলে এখানকার থানায় মামলা করতে হয়। তবে সেই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই শ্রমিককে এখানে থাকতে হয়। কিন্তু প্রায় কেউ-ই শেষ পর্যন্ত মামলা করতে চান না। থাকতেও চান না। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব নারী কর্মী সৌদি আরব যান, তাঁদের কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না। তাই কোনো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাঁরা মামলা না করে নিজের পাওনা নিয়ে দেশে ফেরত আসতে চান। দেশে ফেরত আসলে তাঁকে লিখিত দিতে হয় যে নিয়োগ কর্তা তাঁর সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ বা শর্ত ভঙ্গ করেনি। ফলে আইনগত প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়। কিন্তু সরকার চাইলে ঐ নিয়োগ কর্তাদের চিহ্নিত করে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করতে পারে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]