• প্রচ্ছদ » » হুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ এবং আমার অদেখা মুক্তিযুদ্ধ


হুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ এবং আমার অদেখা মুক্তিযুদ্ধ

আমাদের নতুন সময় : 21/10/2019

সৈয়দ সাঈফ

মুক্তিযুদ্ধ আমি নিজের চোখে দেখিনি। আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। তার শুরুটা একটা বই, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ এই গল্প পড়তে পড়তেই আমি হঠাৎ নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম। এই বইটার প্রত্যেকটা পাতার ভাঁজে-ভাঁজে জমা আছে কতো কষ্ট, কতো কান্না, কত হাসি। বালিশের কভার ভিজে আসে। একটা একটা অনুচ্ছেদ পড়ি, আমার ভেতরে কে যেন কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকে। কেন আমার জন্ম হলো না সেই সময়টাতে, আমি কতো দুর্ভাগা। মনে পড়ে চুন্নু ডোম শাখারি বাজার থেকে লাশগুলো ধলপুর ময়লা ডিপোতে ফেলতে যেয়ে বর্ণনা করেছে- মেয়েদের লাশের কারো স্তন পাই নাই, যোনিপথ ক্ষত-বিক্ষত এবং পেছনের মাংস কাটা দেখেছি। মেয়েদের দেখে মনে হয়েছে তাদের হত্যা করার পূর্বে তাদের স্তন সজোরে টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। যোনিপথে লোহার রড কিংবা বন্দুকের নল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুবতি মেয়েদের যোনিপথের এবং নিতম্বের মাংস যেন ধারালো চাকু দিয়ে কেটে এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি যুবতির মাথায় খোপা খোপা চুল দেখলাম। মিডফোর্ড থেকে আমরা প্রতিবারে একশ লাশ নিয়ে ধলপুর ময়লা ডিপোতে ফেলেছি। বাদদেই অনেক অনেকবার বলেছি এই গল্প, বারবার বলেই এর আবেগকে বোঝাতে পারবো না, শুধু হুমায়ূন আহমেদের শেষ দৃশ্যটার কথা বলি; ‘নাইমুল কথা রাখেনি। সে ফিরে আসতে পারেনি তার স্ত্রীর কাছে। বাংলার বিশাল প্রান্তরের কোথাও তার কবর হয়েছে। কেউ জানে না কোথায়। এই দেশের ঠিকানাবিহীন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার কবরের মাঝে তারটাও আছে। তাতে কিছু যায় আসে না। বাংলার মাটি পরম আদরে তার বীর সন্তানকে ধারণ করেছে। জোছনার রাতে সে তার বীর সন্তানদের কবরে অপূর্ব নকশা তৈরি করে। গভীর বেদনায় বলে আহারেÑ আহার’। ভাবতে ভাবতে আমিও যেন চন্দ্রগ্রস্থ হয়ে পড়িÑ শহীদ যোদ্ধাদের দিকে তাকিয়ে থাকি, অপলক নয়নে। হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটা দামি বই যদি কিনতে না পারি চোখে পানি চলে আসে। আমার একমাত্র গর্বÑ আমার নিরঙ্কুশ অহংকার, আমার চোখের সামনের শেলফটাতে সারি সারি মুক্তিযুদ্ধের বই। এই একটা, শুধু একটা ব্যাপারে কোন ক¤েপ্রামাজ নেই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]