কিসিঞ্জার বললেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলো

আমাদের নতুন সময় : 22/10/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্কের শেকড় লুকিয়ে আছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই। এই এক ইস্যুতে ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা ছিলো। তবে দুই দেশই নিরাপত্তা ও অর্থনীতি বিষয়ে সমান্তরাল উদ্যোগ নিয়ে আজকের সম্পর্কের জন্ম দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এই কথা বলেছেন। মুক্তিযুদ্ধে নিজের বিতর্কিত ভুমিকার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত কিসিঞ্জার। শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষার চেষ্টা করে গেছেন। এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশকে তলাহীন ঝুড়ি বলেও অভিহিত করেছিলেন। তবে তার এই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে প্রমানিত করেছে বাংলাদেশ। ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশই এখন বিশে^র দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। ইন্ডিয়া পোস্ট, এএনআই, এনডিটিভি।

৯৬ বছর বয়সী সাবেক এই কূটনীতিবিদ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশিদারিত্ব ফোরামে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সঙ্কট দুই দেশকে সংঘাতের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধের একদম শেষ পর্যায়ে যুদ্ধে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের মিত্র পাকিস্তানের সাহায্যে বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিলো বাংলাদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তায় তারা এটি করছে, তবে ভারত এ ঘটনাকে নিজেদের নিরাপত্তার হুমকি হিসেবেই দেখেছিলো। কিসিঞ্জার বলেছেন এটি ছিলো শীতলযুদ্ধের সময়। তাই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও ছিলো ভিন্ন।
বার্লিন সঙ্কটের উদাহরণ দিয়ে হেনরি কিসিঞ্জার বলেন, ঐ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়হর লাল নেহরু ও ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না করায় মার্কিন সরকারের অনেকেই ছিলেন হতাশ। কিসিঞ্জারের ভাষায়, ভারত ছিল তখন ঐতিহাসিক বিবর্তনের সূচনালগ্নে। যেসব সমস্যা বেরিয়ে এসেছিল তার সবটা সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল না ভারতের কাছে। ভারত তখন তার নিজস্ব বিবর্তন ও নিরপেক্ষতার নীতিতে খুব বেশি মনোনিবেশ করেছিল। তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিল সেই সময়ে হয়েছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। তার ভাষায়, আমরা এই সঙ্কটকে দেখেছি বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে বলা যায় যে, শুধু মৌলিক বিবর্তনই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমান্তরাল উন্নয়ন করতে পারে। অনেক বছর ধরে আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে পৌঁছেছি যেখানে অনেক ইস্যুতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অভিন্ন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে।
হেনরি কিসিঞ্জার বলেছেন, এই দুটি দেশের মধ্যে বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে। পূর্ববর্তী কোনো আয়োজন ছাড়াই এ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এই দুইদেশের মধ্যে। হেনরি কিসিঞ্জারের ভাষায়, যদি আপনি বিশ্বের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন পৃথিবীর প্রতিটি স্থান উত্তাল, অশান্তি বিরাজ করছে। আপনি তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি সাধারণ ধারণার বিকাশ ঘটাতে পারবেন না। কিন্তু আপনি শান্তি ও অগ্রগতির জন্য অত্যাবশ্যক কাজ করতে পারেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। তারপরও আমি বলব যে, এখন কোনও দুটি দেশ তাদের মধ্যে বন্ধুত্বকে বিকশিত করার মতো ভালো অবস্থানে নেই। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]