ট্রুডো আপন চমকেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী পুর্ননির্বাচিত

আমাদের নতুন সময় : 22/10/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : পূর্ববর্তী সকল জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও সোমবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে লিবারেল প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজ অভাবনীয় চমকে কেবল শক্তিশালী সংখ্যালঘু সরকার গঠনেই সক্ষম হননি, বরং কনজারভেটিভ নেতা অ্যান্ড্রু শিয়ারকে তার নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জে ঠেলে দিয়েছেন।

মঙ্গলবারর অতি প্রত্যুষে প্রদত্ত এক বিজয় ভাষণে ট্রুডো বলেন, ‘আপনারা আমাদের লিবারেল দলকে রাজধানী অটোয়ায় স্বচ্ছ কর্তৃত্ব দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন। ‘আমরা সে দায়িত্ব অতি গুরুত্বে ধারণ করেছি এবং আমরা আপনাদের পরিবার ও ভবিষ্যতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করবো। আমরা জীবনযাপন সাশ্রয়ী করবো। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে লড়বো। আগ্নেয়াস্ত্রবিহীন নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি কানাডার জনগণের জন্য বিনিয়োগ ঘটাবো।’

অথচ নির্বাচনের আগে করকর্তনের বিনিময়ে ভোটারদের জীবন সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতিতে শিয়ার কনজারভেটিভদের সমর্থনদানের ক্ষেত্রে ট্রুডোর এসএনসি-লাভালিন সংক্রান্ত কেলেংকারী ও কালোমুখোশের চিত্র নিয়ে ‘সরকার পরিচালনায় নৈতিক কর্তৃত্ব’ হারানোর দাবিটি তোলেন। কিন্তু বিপুল কানাডিয় তাতে ঐকমত্য পোষণ করেননি। এখন নির্বাচনের ফলাফল জনপ্রিয় ভোট ও ২৬টি আসন হারানো সত্ত্বেও কনজারভেটিভের চাইতে ট্রুডোর দলকেই তুলনামূলক সংখ্যালঘু সরকার গঠনের রায়টি দিয়েছে এবং একই সঙ্গে শিয়ারের নেতৃত্বের উপর নতুন চাপ আরোপ করেছে।

ফলাফলে কানাডার ৩৩৮ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে দলগতভাবে লিবারেল ১৫৭, কনজারভেটিভ ১২১, ব্লক ক্যুবেকুয়া ৩২, নিউ ডেমোক্রেট ২৪, গ্রীণ ৩ এবং লিবারেল দলীয় সাবেক আইনমন্ত্রী জোডি উইলসন-রেবল্ড ভ্যাঙ্কুভার গ্র্যানভিল আসনে লিবারেল প্রতিদ্বন্দ্বী তালিব নুরমোহাম্মদকে ২,৯০০ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে একমাত্র স্বতন্ত্র সাংসদ হবার গৌরব অর্জন করেছেন। তবে অশোয়া আসনে লিবারেল মনোনীত একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আফরোজা হোসেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচবারের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ সাংসদ কলিন কেরির সঙ্গে ৮,৩৯৭ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
তথাপি অ্যান্ড্রু শিয়ার তার নির্বাচনোত্তর ভাষণে দলনেতার অবস্থান পরিত্যাগের কোনোই আভাস দেননি। কেননা কনজারভেটিভ দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে যদি দল সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় এবং দলনেতা পদত্যাগের কোনো আভাস না দেন, তবে প্রতিনিধিরা পরবর্তী কনভেনশনে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারেন। যদি ৫০ শতাংশের উপর ভোট অনুরূপ পদ্ধতির অনুমোদন দেয় তা হলে তা আয়োজিত হতে পারে। অবশ্যই শিয়ার সেই অত্যাবশ্যকীয় ভোটের আগেই পদত্যাগে সচেষ্ট হবেন বলেই ধারণা।

এসব সত্ত্বেও লিবারেল যে নিউ ডেমোক্রেটদের সমর্থনপুষ্ট হয়ে ক্ষমতাসীন থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ১৭০টি আসনের অপরিহার্যতাটি তাতে পরিপূরণ হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]