তিন ডজন কাউন্সিলর টেন্ডারবাজী দখলবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত

আমাদের নতুন সময় : 22/10/2019

 

সুজিৎ নন্দী : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৫ জনের বেশি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরাসরি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জুয়া, দখলবাজি, ফুটপাত দখল করে অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এরা পরিচ্ছন্নকর্মীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে চাঁদা নিয়ে থাকে। এরই মধ্যে প্রমাণ মিলেছে প্রায় এক ডজন কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে যারা অবৈধ ক্যাসিনো, জুয়ার আসর ও ফুটপাতের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রধান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় এরা দখলদারিত্ব করেছে। বর্তমানে দক্ষিণ যুবলীগ সাবেক সভাপতি, বর্তমান কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাউসার, ক্যাসিনো সম্রাট, মমিনুল হক সাঈদ, খালেদ ভূইয়ার ছত্রছায়াই দখলে রাখছে। এখনো মাঝে মাঝে ক্যাসিনো সম্রাটের মুক্তির জন্য কাকরাইল ও সেগুণবাগিচায় ছোট ছোট মিছিল হয়। শ্লোগান শোনা যায়। এই কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রায় দেড় ডজন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। রাতভর তারা এসব অপকর্ম করেন এরকম অভিযোগ স্থানীয়দের। এরই মধ্যে প্রায় ২ জন কাউন্সিল গ্রেফতার এবং সদ্য বহিষ্কৃত একজন কাউন্সিলর দেশের বাইরে আছে।
দক্ষিণে ঠিকাদারি, টেন্ডার ও দখলবাজিতে শীর্ষে আছে ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ রতন। যার দৌরত্বে এলাকার মানুষ এখনো আতংকের মধ্যে আছে। টেন্ডারবাজিতে সরাসরি জড়িত। অফিসে না বসলেও তার লোকজন এখনো চাঁদাবাজিতে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র তার আর ক্যাসিনো সম্্রাটের দখলে ছিলো। সেগুণবাগিচা কাঁচাবাজার ছিলো তার দখলে। এলাকায় তাকে ‘দ্বিতীয় স¤্র্রাট’ বলা হয়। পাশাপাশি ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ হোসেন (মহসিন), ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশ্রাফুজ্জামান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর (সদ্য বহিষ্কৃত) একেএম মমিনুল হক সাঈদ, ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল গোলাম আশরাফ তালুকদার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান পপি, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসীম উদ্দিন আহমেদ, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম সজীব, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার পারভেজ বাদল, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাসান (পিলু), ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিল্লাহ শাহ, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আউয়াল হোসেন, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিম মিয়া, সংরক্ষিত আসনে ১৩ নম্বর কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন (মণি) ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোসাম্মৎ শিউলী হোসেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাউন্সিলরদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে বর্তমানে ভাটারা এলাকার ত্রাস ৪০ নম্বর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ঢালি। যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজী, ফ্ল্যাট দখলকরাসহ প্রায় ২০টিও বেশি অভিযোগ আছে। এছাড়া থানা থেকে অপরাধীদের ছাড়িয়ে আনার অভিযোগ রয়েছে। এবার গরুর হাটে ব্যাপারীদের কাছ থেকে গরু ছিনতাইয়ের অভিযোগ আছে। পরিচ্ছন্নকমীদের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের কাউন্সিলর সদ্য গ্রেফতার হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে (পাগলা মিজান), ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের তারেকুজ্জামান রাজিব (বর্তমানে কারাগারে), ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবাশ্বের চৌধুরী বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে, ৮ নম্বর কাজী টিপু সুলতান, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম, ৪০ নম্বর কাজী নজরুল ইসলাম ঢালি, ২৬ নম্বর কাউন্সিলর শামীম হাসান, ৩০ নম্বর কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসু, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম ঢালি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড জাহাঙ্গীর আলম, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৫ রাজিয়া সুলতানা ইতির নাম এসেছে। এরা পরিচ্ছন্নকর্মী থেকে শুরু করে পরিবহন, ফুটপাত চাঁদাবাজিতে জড়িত। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]