• প্রচ্ছদ » সাবলিড » বেতনভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা সাকিবদের


বেতনভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা সাকিবদের

আমাদের নতুন সময় : 22/10/2019


এল আর বাদল : ঘরোয়া ক্রিকেট আর বিপিএলে পারিশ্রমিক বাড়ানো এবং ক্রিকেটারদের প্রতি বিসিবির দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোসহ ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের এই ঘোষণার পর আগামী ২৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লীগের তৃতীয় রাউন্ড এবং ২৫ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের ক্যাম্প কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো।
গতকাল দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমসহ আরও অনেক ক্রিকেটার।
ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে সাকিব জানিয়েছেন, দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রমে অংশ নেবেন না ক্রিকেটাররা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রথম দাবি সম্পর্কে সিনিয়র ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম বলেন, কোয়াব (ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নিয়ে কি নির্বাচন হবে, কে প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি হবেন- তা আমরা ক্রিকেটাররা বাছাই করবো।
দ্বিতীয় দাবি সম্পর্কে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, কয়েক বছর ধরে জানেন প্রিমিয়ার লিগের পরিস্থিতি কি। এখানে পারিশ্রমিকের একটা মানদ- বেঁধে দেয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের অনেক লিমিটেশন দেয়া হয়েছে। আমাদের দাবি হলো আগের মতো যেন প্রিমিয়ার লিগটা ফিরে পাই।
তৃতীয় দাবি তুলে ধরে মুশফিকুর রহীম বলেন, আমাদের প্রধান দাবি হলো, আগের নিয়মের বিপিএল যেন আগামী বছর থেকে চলে আসে। আর মূল দাবি হলো, বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়ররাও যেন ভালো পারিশ্রমিক পায়। চতুর্থ দাবি তুলে ধরে সাকিব আল হাসান বলেন, আমরা সবাই মনে করি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন পঞ্চাশ ভাগ বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেনার রাখতে হবে, তারাই আসলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের একটা পরিকল্পনা দেবেন। পঞ্চম দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্রিকেটাররা যার যার হোম ভেন্যুতে প্র্যাকটিসের সুযোগ দিতে হবে। খেলোয়াড়দের প্রতিদিনের ভাতা ১৫০০ টাকা, এটা হতে পারে না। তাদের বিমান দেয়া উচিত। আর ওয়ান স্টার, টু স্টার হোটেলে কোনোরকম রুম আছে, এমন হোটেলে খেলোয়াড়দের থাকা সম্ভব নয়। কারণ, চারদিনের ম্যাচ খেলে ফ্রেশনেসের জন্য হোটেলে কমপক্ষে একটা জিম, একটা সুইমিংপুল থাকা উচিত। আরেকটা হলো বাস। কমপক্ষে একটা এসি বাস দেয়া উচিত।
ছয় নম্বর দাবি তুলে ধরে এনামুল হক জুনিয়র বলেন, জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সেটা ৩০ জন করা উচিত। বেতন অনেক দিন ধরে বাড়ানো হয় না, সেটা বাড়াতে হবে।
সাত নম্বর দাবি তুলে ধরেন তামিম ইকবাল বলেন, গ্রাউন্ডসম্যানরা মাস শেষে ৫ বা ৬ হাজার টাকা পায়। কোচের কথা বলেন। আমরা নিজেরাই বাংলাদেশি কোচদের দাম দিচ্ছি না, বিদেশি কোচদের বেতন আমাদের ২০টা কোচের বেতনের সমান। এরপর তিনি বলেন, আম্পায়ারিং নিয়ে সমালোচনা আছে; কিন্তু আপনারা জানেন, আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে নিতে হলে তাদের তো একটা আর্থিক সিকিউরিটি দিতে হবে। সেটা দেয়া হয় না। সব মিলিয়ে আমাদের মূল দাবি, বাংলাদেশিদের যেন প্রাধান্য দেয়া হয়।
৮ নম্বর দাবি আসে এনামুল হক বিজয়ের কাছ থেকে। তিনি বলেন, আমরা চাই, ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগে একটা ওয়ানডে টুর্নামেন্ট চালু হোক, যাতে আমরা আরও ওয়ানডে পাই, খেলার সুযোগ পাই।
৯ নম্বর দাবি তুলে ধরে নুরুল হাসান সোহান বলেন, ঘরোয়া টুর্নামেন্টের জন্য আমাদের একটা ফিক্সড ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। ১০ নম্বর দাবিতে জুনায়েদ সিদ্দিকী বলেন, বিপিএলে প্রিমিয়ার লিগের যে বকেয়া টাকা সেটা যেনো নির্দিষ্ট সময়ে পাই। ১১ নম্বর দাবি তুলে ধরে ফরহাদ রেজা বলেন, দুইটার বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলা যাবে না। যদি আমরা জাতীয় দলের ডিউটি থেকে ফ্রি থাকি, তবে যেনো আরও খেলতে দেয়া হয়। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]