• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » রিকশা চালকের ছেলে কাউন্সিলর রাজীব শতকোটি টাকা ও ২০ বাড়ির মালিক


রিকশা চালকের ছেলে কাউন্সিলর রাজীব শতকোটি টাকা ও ২০ বাড়ির মালিক

আমাদের নতুন সময় : 22/10/2019


মাসুদ আলম : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হলেও ঢাকা-১৩ আসন (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) পুরো এলাকায় ছিল তার রাজত্ব। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তারপর মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন। মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা পাইনকে জুতাপিটা করার অভিযোগে বহিষ্কারও হন। ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান। শুরু হয় জমি, ফ্ল্যাট দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও টেন্ডারবাজি। জমি ও ফø্যাট দখল ছিলো তার নেশা। সাবেক এক সংসদ সদস্যের ছেলে পরিচয়ে সর্বত্র চলতো তার দখলবাজি ও চাঁদাবাজি। দেশ-বিদেশে রয়েছে অঢেল সম্পদও।
এদিকে, ভাটারা থানায় অস্ত্র ও মাদক মামলার তদন্তভার সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোববার গভীর রাতে ওই দুই মামলায় ৭ দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড নেয় পুলিশ। রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন ভাটারা থানা পুলিশ। এরপর তাকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব নিজেই তার অবৈধ লেনদেন, দখলদারিত্ব এবং অপরাধ জগতের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছেন। তার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গত ২৬ আগস্ট ব্র্যাক ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টেই তিনি জমা দিয়েছেন ৫ কোটি টাকা। তিনটি চেকে ওই টাকা জমা দেয়া হয়। সাবেক এক এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করতেন তিনি। গ্রেপ্তার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানের সহযোগী ছিলেন রাজীব। মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম বেরিয়ে আসে।
ভাটারা থানার পরিদর্শক গোলাম ফারুক বলেন, কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ হয়নি। তবে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও এলাকাবাসী জানান, রাজীবের গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলায়। দেশ স্বাধীনের পর তার বাবা তোতা মিয়া হাওলাদার ও চাচা ইয়াছিন হাওলাদার ঢাকায় এসে মোহাম্মদপুর এলাকায় রিকশা চালাতেন। পরে তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজও করেন। রাজীবও তার বাবা-চাচার সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। এখন তারা সবাই কোটিপতি। রাজীবের মোহাম্মদপুরসহ আশেপাশের এলাকায় আলিশানসহ ২০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। তার চাচা ইয়াছিনেরও রয়েছে ১০/১৫টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট। চাচা-ভাতিজার দখলদারিত্বে নি:স্ব হয়েছে অনেকে। রাজীব ও তার সশস্ত্র বাহিনীর ভয়ে অনেকে এলাকা ছাড়া। কাউন্সিলর মিজান, রাজীব ও তুহিন একই সিন্ডিকেট হয়ে কাজ করতো।
রাজীবের এক আত্মীয় বলেন, হঠাৎ করে তার উত্থান অবিশ^াস্য। সে তার অতীত ভূলে গেছে। কাউন্সিলর হওয়ার পর সাক্ষাতোও পাওয়া যেতনা।
স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, রাজীবকে আগে কেউ চিনতো না। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় তাকে মোহাম্মদপুর এলাকার সাবেক এক এমপির বাসায় কাজ করতে দেখা যেতো। ওই এমপিকে বাবা ডাকতেন রাজীব। সেখান থেকেই তার উত্থান। গত ৬ মাস আগে যুবলীগ চেয়ারম্যানকে এক কোটি টাকা দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন এ বিতর্কিত কাউন্সিলর। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]