সাম্রাজ্য হারানো ওমর ফারুক চৌধুরী

আমাদের নতুন সময় : 22/10/2019

সমীরণ রায় : একদিন আগেও যুবলীগের একমাত্র কা-ারি ও সংগঠনটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তার মুখের কথাই ছিলো যুবলীগের আইন। কিন্তু রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে যুবলীগ চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহত দেওয়া হয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে। ফলে তার এতোদিনের সা¤্রাজ্য ভেঙে গেলো। দোর্দ- প্রতাপশালী এ চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি দেয়ায় আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করার সুযোগটুকুও হারালেন তিনি। সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও হারুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করা হয়। এতে করে তার পাশে আর কেউ নেই। পাশে নেই মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে প্রটোকল দিতেন যেসব নেতাকর্মীরাও। তাই গতকাল সোমবার সারাদিনই ওমর ফারুক চৌধুরী ধানম-ির ৮/এ- এর বাসায়ই শুয়ে-বসে কাটিয়েছেন। তিনি কোথাও বের হননি। যদিও তাকে অব্যাহতি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বাসা প্রশাসন ঘিরে রেখেছে এমন খবর আসে। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে তিনি গ্রেফতার না হলেও গৃহবন্দি রয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগের কার্যালয়ে গিয়েও সিনিয়র কোনো নেতাকে পাওয়া যায়নি। দুই একজন নেতাকর্মীকে পাওয়া গেলেও তারা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলামকেই খুঁজছেন। কেউ আর ওমর ফারককে খোঁজ করছেন না। কেউ তার নামটিও মুখে আনতে চান না। সম্প্রতি যুবলীগের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ উঠে। সেখানে ওমর ফারুকের নামও ওঠে আসে। এ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ অনেককেই। এরই আলোকে ওমর ফারুকের ব্যাংক হিসাব তলবসহ বিদেশে যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর থেকেই আড়ালে চলে যান তিনি।
ওমর ফারুক চৌধুরীর সম্পর্কে যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, তিনি ধানম-ির বাসায়ই আছেন। তিনি যুবলীগকে একনায়কতন্ত্রে পরিণত করেছিলেন, কারো কথা শুনতেন না। তিনি যা বলতেন সেটিই ছিলো যুবলীগের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ। কেউ কথা বলতে চাইলে পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার হুমকি দিতেন ও বাবা-মা তুলে গালিগালাজ করতেন। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের অনুগতদের বসিয়েছেন। ঢাকা মহানগর ও দেশব্যাপী জেলা কমিটিগুলো হয়েছে তার পকেটের লোক দিয়ে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অনেককে কমিটিতে রেখেছেন। পদভেদে ১০-৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এমনকি ফ্রিডম পার্টি ও যুবদলের নেতাদের টাকার বিনিময়ে যুবলীগে এনেছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যুবলীগকে ওমর ফারুক চৌধুরী সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। সে কারণে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনকে কালিমা বহন করতে হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকা-ে যুবলীগ নেতাদের নাম আসলে নিজেই লজ্জা পাই। তবে দুষ্ট জায়গার ওপর আঘাত করতেই হয়। নানা সময় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরও সতর্ক করেছেন। যদি আমি অন্যায় করি প্রধানমন্ত্রী আমাকেও ক্ষমা করবেন না। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]