• প্রচ্ছদ » » সাম্প্রদায়িক চরিত্র সৃষ্টি করতে চায় বাংলাদেশবিরোধীরা ভোলা সহিংসতার নেপথ্যেদের কঠোর শাস্তি দাবি গুণীজনের


সাম্প্রদায়িক চরিত্র সৃষ্টি করতে চায় বাংলাদেশবিরোধীরা ভোলা সহিংসতার নেপথ্যেদের কঠোর শাস্তি দাবি গুণীজনের

আমাদের নতুন সময় : 23/10/2019

আশিক রহমান : ভোলার বোরহানউদ্দিনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক তরুণের বিচারের দাবিতে ২০ অক্টোবর ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়। নিহতদের নিজেদের কর্মী-সমর্থক বলে দাবি করে তৌহিদী জনতা। সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এক তরুণের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত। যদিও তদন্তে বিপ্লবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তবে অনেকের অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট ও সরকারকে বিব্রত করতেই ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে ‘তৌহিদী জনতা’ নামের আড়ালে থাকা জামায়াত-শিবির বা মৌলবাদী গোষ্ঠী।

জানতে চাইলে ইতিাহসিবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোলার সংঘাত পূর্বপরিকল্পিত ও সাম্প্রদায়িক চরিত্র সৃষ্টি করার একটা ষড়যন্ত্র ছিলো। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সঠিক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হতো, তাহলে ঘটনা এতোদূর এগোতো না। সমস্যাটা স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে রয়ে গেছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সব রকমের ব্যবস্থা নেয়ার পরও আন্দোলন অযৌক্তিক। ব্যবস্থা নেয়ার পর যদি আন্দোলন হয়, তাহলে বুঝতে হবেÑ এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য আছে। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক, আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়।

তবে ড. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কিছুটা দ্বিমত প্রকাশ করেছেন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, সারাদেশে মসজিদ নির্মাণের জন্য সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। দেশে এতো মসজিদ বানানোর তো দরকার নেই। মসজিদ বানাবে মানুষ নিজে। মানুষের ধর্মীয় বিশ^াস বাড়ছে না, কিন্তু ধর্মের ব্যবহার বাড়ছে। সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণেই এমন হচ্ছে। মানুষকে কথাবার্তা বলতে না দিলে এই গুজব ছড়াবেই। আমরা যদি কথাবার্তা বলতে পারতাম তাহলে মানুষকে বলা যেতো যে, ভাই গুজবে কান দিয়েন না। নবী-রাসূল (সা.) নিয়ে কটূক্তি করবে না। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে এ জাতীয় ঘটনা ঘটবেই। সংঘাতের কারণ পুলিশের নিয়ন্ত্রেণের ব্যর্থতা রয়েছে। অব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাচারিতা। সরকার যে মিটিং-মিছিল করতে দেয় না, গুজবকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে ভোলায়, সেটা তারই ফল।

গুজব বা সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকাতে পুলিশের সক্ষমতা কতোটুকু? পুলিশের সাবেক আইজিপি নুরুল আনোয়ারের মতেÑ কে, কোনভাবে গুজব ছড়াবে কে বলতে পারে আগে থেকে, তা ঠেকানোর কী মেকানিজম আছে জানি না। শুধু পুলিশ নয়, কারও কাছে আছে বলেও আমার জানা নেই। যারাই গুজব ছড়ায় তারা হয় অর্বাচীন অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করে থাকে। ভোলার ঘটনা এমন সময় পুলিশ জেনেছে, তখন তাৎক্ষণিকভাবে কী আর কতে পারে। কে, কোন মতলবে করেছেÑ এটা বোঝার জন্য কোনো মিটার আছে? ভোলার ঘটনা যারাই ঘটিয়েছে তা সজ্ঞানে করেছে। দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটনানোর সাহস পাবে না বলেও মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]