শীতের আগেই এক লাখ রোহিঙ্গা যাবে ভাসানচরে

আমাদের নতুন সময় : 26/10/2019

তাপসী রাবেয়া : কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদেরকে আগামী মাস খানেকের মধ্যে অর্থাৎ শীত মৌসুম আসার আগেই ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু করতে চাইছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য ভাসানচর এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। টুইট, ফেসবুকে পোস্ট থেকে শুরু করে বিবিসি ও গণমাধ্যম্যের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান আমাদের প্রত্যাশা ছিল, এই বর্ষা মৌসুমের পরই তাদের নিয়ে যাওয়ার। বর্ষা শেষ হয়েছে, এখন শীতকাল শুরুর আগেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে আশা করি। তিনি বলেন, প্রথম দফায় ১১ লাখ থেকে এক লাখ লোককে সেখানে নেয়া হবে।
এরই মধ্যে প্রশাসনিক কাজও শেষের পথে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের মতো তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রায় ১২শ’ একর জমির ওপর ভাসানচরকে পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে বলেও দাবি করছে সরকার। ভাসানচরের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত এই চরে স্থানান্তরের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের আপত্তি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের বুঝিয়ে রাজি করানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছিল।
শাহরিয়ার আলম বলেন, ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম এর কর্তাব্যক্তিরা চার মাস আগে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তখন তাদের কাছেও প্রধানমন্ত্রী তার পরিকল্পনা খুব পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার -ইউএনএইচসিআরসহ যে সব আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করছে, তাদের জোর আপত্তি ছিল ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের ব্যাপারে।
ইউএনএইচসিআর এর একজন কর্মকর্তা লুইস ডনোভান বলেছেন, ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উত্থাপিত বিষয়গুলো সরকার বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করছেন।
যদিও সরকার বলছে যে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাওয়ার জন্য তালিকাভূক্ত হচ্ছেন, কিন্তু তারপরও অনেক রোহিঙ্গার মাঝে এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ বলছিলেন, ভাসানচরে তাদের নিরাপত্তা এবং বসবাসের উপযোগী ব্যবস্থা আসলে কতটা নেয়া হয়ছে, তার বিস্তারিত তাদের আগে জানাতে হবে। এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, আগে আমাদের ভাসানচরে নিয়ে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ দেখাতে হবে, তাহলে মানুষের বিশ্বাস হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উত্থাপিত বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ভাসানচরে যে স্থাপনাগুলো করা হয়েছে, এগুলো যে কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। আমরা শুধু ঘরগুলো বানাইনি। এমনভাবে বাঁধ দেয়া হয়েছে, যাতে জলোচ্ছ্বাসে কোনো ক্ষতি না হয়। তাদের শিক্ষারও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
এদিকে, ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভাসানচরে স্থানান্তর স্থগিত রাখার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]