থাইল্যান্ডে বসে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই

আমাদের নতুন সময় : 29/10/2019

মাসুদ আলম : বাংলাদেশের রহস্যময় ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের তালিকা করলে প্রথমদিকেই থাকবে যাদের নাম তাদের একজন আজিজ মোহাম্মদ ভাই। যাকে নিয়ে আছে নানা গল্প, নানা রহস্য। আর এসব গল্পের বেশিরভাগই চলচ্চিত্র জগতের নারী, মাদক ও স্বণচোরাচালান কেন্দ্রিক। চোরাচালানের মাধ্যমে রাতারাতি হয়ে যান ধনকুবের। দেশ বিদেশে রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। তার দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের মধ্যে ছোট স্ত্রী নওরিন ভাই ও চার সন্তান নিয়ে থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন আজিজ। আর বড় স্ত্রী লন্ডনে থাকেন। নওরিনই দেশের ব্যবসা দেখাশুনা করেন। আজিজের নেশা নারী ও স্বর্ণ চোরাচালান। রোববার তার গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই বাসায় প্রতিরাতে বসতো মদের আড্ডা ও ডিজে পার্টি। অনেকের কাছে বাসাটি মিনি বার হিসেবে পরিচিত। গত ওয়ান ইলেভেনে গ্রেপ্তার এড়াতে থাইল্যান্ডে চলে যান তিনি। সেখানে বসেই চলছে তার অপরাধ কর্মকা-। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র আরও জানান, নামের সাথে ‘ভাই’ শব্দটি থাকার কারণে অনেকেই মনে করেন গডফাদার বলেই তাকে ভাই বলা হয়। ‘ভাই’ শব্দটি মূলত তাদের বংশপদবী। পরিবারের সকলেরই নামের শেষে ভাই পদবী আছে। এমনকি নারীদের নামের সাথেও ভাই শব্দটি রয়েছে। তার পিতার নাম মোহাম্মদ ভাই। মায়ের নাম খাদিজা মোহাম্মদ ভাই। ১৯৪৭ এ ভারত ভাগের পর তাদের পরিবার ভারতের গুজরাট থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশে আসে। তাদের পরিবার মূলত পারস্য বংশোদ্ভুত। তারা ‘বাহাইয়ান’ সম্প্রদায়ের লোক। বাহাইয়ান’ কে সংক্ষেপে ‘বাহাই’ বলা হয়। উপমহাদেশের উচ্চারণে এই ‘বাহাই’ পরবর্তীতে ‘ভাই’ হয়ে যায়। ধনাঢ্য এই পরিবার পুরান ঢাকায় বসবাস শুরু করে। ১৯৬২ সালে আজিজ মোহম্মদ ভাইয়ের জন্ম হয় ঢাকার আরমানিটোলায়।
পারিবারিক সূত্রে আজিজ মোহাম্মদ ভাই নিজেও শুরু করে ব্যবসা। দিনে দিনে বাড়তে থাকে তার অর্থ সম্পদ। অলিম্পিক ব্যাটারি, অলিম্পিক বলপেন, অলিম্পিক ব্রেড ও বিস্কুট, এমবি ফার্মাসিটিউক্যাল, এমবি ফিল্ম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, দুবাই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুরে রয়েছে তার হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ও জড়িত তিনি। র্শীষ সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
সূত্র আরো জানান, ৯০ এর দশকে আজিজ মোহাম্মদ ভাই এমবি ফিল্মসের ব্যানারে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসেন। নায়িকাদের রূপের মোহে কালো টাকা সাদা করতে মিডিয়ায় বিনিয়োগ করেন তিনি। চলচ্চিল জগতে ছিলো তার একক আধিপত্য। অর্ধশতাধিকের বেশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। এরশাদের আমলে একবার গ্রেপ্তার হন তিনি। প্রচলিত আছে এক নারী নিয়ে দ্বন্দ্বের কারনেই তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিলো। পরে লন্ডনের প্রিন্স করিম আগা খানের সুপারিশে মুক্তি পান তিনি। চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও সোহেল চৌধুরীকে হত্যা করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে। কোন একটি পার্টিতে সালমানের স্ত্রী সামিরাকে চুমু দেয় আজিজ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সকলের সামনে আজিজকে চড় মারে সালমান। তার ভাগিনা ইয়াবা স¤্রাট আমিন হুদা কারাগারে রয়েছে।
আজিজের সাবেক এক কর্মচারি জানান, বিদেশে থাকলেও দেশের অপরাধ জগতে তার আধিপত্য রয়েছে। অধিকাংশ শীর্ষ সন্ত্রাসী তার শিষ্য। সম্পাদনা খালিদ আহমেদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]