• প্রচ্ছদ » আজকের পত্রিকা » অর্থনীতি দুষ্ট চক্রের হাতে বন্দি, সরকারকে সতর্ক করলো সিপিডি প্রবৃদ্ধির উপাখ্যান প্রকৃত উন্নয়নের শত্রুতে পরিণত হয়েছে


অর্থনীতি দুষ্ট চক্রের হাতে বন্দি, সরকারকে সতর্ক করলো সিপিডি প্রবৃদ্ধির উপাখ্যান প্রকৃত উন্নয়নের শত্রুতে পরিণত হয়েছে

আমাদের নতুন সময় : 04/11/2019


বিশ্বজিৎ দত্ত : দেশের অর্থনীতি দুষ্ট চক্রের হাতে আবর্তিত হচ্ছে। এরা হলো ক্যাসিনো. বিদেশে পাঁচার হয়ে যাওয়া টাকার মালিক, ব্যাংক লুট হয়ে যাওয়া,ঘুষ-দুর্নীতি ও প্রকল্পের নামে এক টাকার জিনিস হাজার টাকায় কিনে নেয়ার মালিকরা।এই দুষ্ট চক্র থেকে দেশকে বের করতে হলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। না হলে দেশ পাকিস্তান বা আজকের আর্জেন্টিনার মতো ফতুর অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। গতকাল বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনায় এ কথা বলেছেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সিপিডি দেশের অর্থনীতির মূল্যায়ন করে বাজেটের ৬ মাস পরে। কিন্তু আর্থিকখাতে নেতিবাচক প্রবনতা বুদ্ধির কারনে সিপিডি আগাম মূল্যায়ন করেছে। যাতে সরকার সতর্ক হতে পারে। তিনি বলেন,বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ না থাকায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে, খেলাপি ঋণ মাপের মাধ্যমে , রপ্তানিতে, রেমিটেন্সে নানা ধরণের প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রণোদনা দেওয়ারও একটা সীমা আছে। অর্থনীতি সেই সীমার কাছে পৌঁছেছে। কারণ সরকারের আয় নেই। রাষ্ট্রিয় যেসব বিনিয়োগ হচ্ছে। তার সঙ্গে রাজস্ব আয়ের কোন যোগ নেই, রাজস্বের সঙ্গে বাণিজ্য নীতি দূর্বল, অর্থমন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের সমস্যা রয়েছে। কোন ধরণের বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া অর্থনীতির সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার সতর্ক না হলে সরকারের প্রণোদনা নির্ভর অর্থনীতি ভেংগে পড়তে বাধ্য।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, প্রবৃদ্ধি এখন সুতা কাটা ঘুড়ির মতো। বাস্তবতার সঙ্গে সুতার যে সংযোগ থাকে সেটা এখানে নেই। প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক উন্নয়নের যে উপাখ্যান তৈরি হয়েছে তা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শত্রুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২২-২৩ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অথচ প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৮ শতাংশ হয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহও গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আবার ব্যক্তিরা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না। তাঁরা বলছেন, লাভ করতে পারছেন না। পুঁজিপণ্য আসা নেতিবাচক হয়ে গেছে। রাজস্ব আয় কমে গেছে। খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সম্পদের পুঞ্জিভ’ত হচ্ছে, আয় বৈসম্য বাড়ছে, ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট নেতিবাচক। রপ্তানি নেতি বাচক, তার পরেও সরকার থেকে বলা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। তিনি এই প্রবৃদ্ধি গণনাকে সঠিক মনে করেন না। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে যারা প্রবৃদ্ধি গণনা করেন তাদের প্রকাশ্যে এসে তথ্যউপাত্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে উপস্থাপন করুক।
পরে সিপিডির মূল্যায়নে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চারটি প্রধান সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো, রাজস্ব আদায়ে গতি কম, ব্যাংক খাতের দুর্দশা, শেয়ারবাজারে সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঝুঁকি।
সিপিডির মতে, ভ্যাট আইনে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংক খাতের ঋণখেলাপিদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। শেয়ারবাজারে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), ব্যাংক হিসাব ও জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে সিপিডি।
অনুষ্ঠানে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পুঁজিবাজারে দুষ্টচক্রের আনাগোনা বেড়েছে। এর ফলে ক্রমাগতভাবে পতন হচ্ছে সূচকের। দুর্বল আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব), অস্বচ্ছ বার্ষিক প্রতিবেদন, বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার) অ্যাকাউন্টের অপর্যাপ্ত স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিকবিনিয়োগকারীদেরপ্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম অস্থিতিশীল করে তুলেছে পুঁজিবাজারকে। এসব সমস্যা সমাধানে কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। এছাড?া নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করছে কিনা এ বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, আমাদের সামনে সব সময় ২৭ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রকৃত চিত্র আসলে ভিন্ন। বর্তমানে পুঁজিবাজারের মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৬৬ লাখের বেশি। প্রতিবছর যে হারে বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ছে সে হারে বিনিয়োগ বাড়ছে না। সুতরাং নতুন নতুন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]